চেক চুরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় সাবেক আইনজীবী সমিতির সম্পাদক কারাগারে

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
চেক চুরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় সাবেক আইনজীবী সমিতির সম্পাদক কারাগারে

চেক চুরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় লক্ষ্ণীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি লক্ষ্ণীপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ফিরোজ আলম।

মামলার এজাহার ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম রায়পুর উপজেলার উদমদমারা গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলীর স্ত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার আত্মীয় মরিয়ম বেগমের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দারগঞ্জ শাখায় তাঁর হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা একটি চেক চুরি করে নিয়ে যান। পরে ওই চেকে ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা উল্লেখ করে মরিয়ম বেগমের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে জমা দেন।

চেকের স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ ও অমিল দেখা দেওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে বিষয়টি অবহিত করে। এ ঘটনায় মরিয়ম বেগমের স্বামী ইউসুফ আলী বাদী হয়ে হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় লক্ষ্ণীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে।

মামলার সূত্রে আরও জানা যায়, দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় চেকে থাকা স্বাক্ষর মরিয়ম বেগমের নয় বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। স্বাক্ষরটি হুমায়ুন কবির হাওলাদারের বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

রোববার হুমায়ুন কবির হাওলাদার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অপর আসামি আব্দুস শহীদ পলাতক রয়েছেন।


আদালতে বাদীপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফিরোজ আলম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. হাসান ও মিজানুর রহমান মুন্সীসহ অন্যরা।


এ বিষয়ে লক্ষ্ণীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, বারের সভাপতি হিসেবে আদালত তাঁকে বিষয়টি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাঁরা সাত দিনের সময় চেয়েছিলেন। তবে বাদীপক্ষ তাৎক্ষণিক প্রতিকার চাওয়ায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে