চিলমারীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা বন রুটির ভিতরে পোকা পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে থানাহাট ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়া রুটিতে পোকা পাওয়ার ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। খাবারের মান নিয়ন্ত্রন পূর্বক পরিবেশনের দাবী সচেতন মহলের। জানা গেছে, উপজেলার ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের অধীনে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বন রুটি, কলা ও ডিম বিতরণ করে আসছে ইকো সোশ্যাল ডিভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির জন্য উপজেলায় ৯৩টি স্কুলের শিক্ষার্থী অনুপাতে প্রতিদিন মোট ১২হাজার ২৪৮টি বন রুটি সরবরাহ করে থাকে গাইবান্ধা ভিত্তিক সংস্থা জিইউকে। গতকাল রবিবার সকালে ২নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন হিসাবে বরাদ্দকৃত খাবার বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। বিতরণকৃত একটি বন রুটির প্যাকেট খোলার পর তার ভিতরে স্পষ্ট পোকা দেখতে পায় শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথেই অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী এনজিও প্রতিনিধিরা পোকা থাকা বন রুটিটি ফেরত নিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলার এমন অবহেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকরা জানান, শিশুদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এনজিও বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এমন গাফিলতির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সুধী সমাজ। স্কুল ফিডিংয়ে প্রায়ই বিভিন্ন অনিয়ম এবং নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয় বলে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। ইকো সোশ্যাল ডিভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র উপজেলা সমন্বয়কারী মোছাঃ মাহফুজা বেগম সুইটি বলেন, হুট করে অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটে গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর রুটিটি পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। থানাহাট ২নং মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, বন রুটির ভিতরে পোকা দেখা গেলে বিষয়টি উপরে জানানো হয়েছে। পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রুটিটি তুলে নিয়ে গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, বন রুটির ভিতরে পোকা থাকার বিষয়টি জেনেছি। প্রধান শিক্ষককে সব রুটি ফেরত দিতে বলেছি। এছাড়াও রুটি নষ্ট এবং পোকা থাকার কারণে বিল প্রদান করা হবে না।