দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় শেরপুরের ৪৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে জেলার ৭৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষকরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাজ সামলাচ্ছেন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পাঠদান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ২৭৮ জন। শূন্য রয়েছে ৪৬৩টি পদ। এর মধ্যে শেরপুর সদরে ১১৬টি, নালিতাবাড়ীতে ৮২টি, ঝিনাইগাতীতে ৬৮টি, নকলায় ৭৫টি এবং শ্রীবরদী উপজেলায় ১২২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য।.প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মিত ক্লাসও নিতে হচ্ছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম নানা জটিলতার মুখে পড়েছে।
শিক্ষকরা জানান, শূন্য পদ পূরণ না হওয়া এবং পদোন্নতি কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বাড়তি কাজের চাপ সামলাতে হচ্ছে। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের কারণে কখনো কখনো শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ এবং দীর্ঘদিন একই পদে থাকা শিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
শ্রীবরদী উপজেলার ঘোরজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা প্রয়োজন। সব পদ পূরণ থাকলে শিক্ষকসংকট দূর হবে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান পাবে।’ একই উপজেলার গবরীকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফোরকান আলী বলেন, ‘শিক্ষকসংকট থাকায় অনেক সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজের জন্য জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ক্লাসও মিস হয়ে যায়। শূন্য পদ পূরণ হলে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও ঠিকভাবে পরিচালনা করা যাবে।’
গড়জরিপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে একই পদে চাকরি করছি। এর মধ্যে প্রায় ১৭-১৮ বছর ধরে একই পদে কর্মরত থাকলেও এখনো পদোন্নতি পাইনি। এতে অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। যথাসময়ে পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষকদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ বাড়বে।’
খড়িয়াকাজিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় আট বছর আগে আমরা এসিআরসহ যাবতীয় বিধিবিধান মেনে চলতি দায়িত্ব পেয়েছি। কিন্তু এখনো পদোন্নতি হয়নি। চলতি দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপ বহন করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা করা উচিত।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, শূন্য থাকা শিক্ষক পদ দ্রুত পূরণের জন্য নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। শূন্য পদের তালিকা, প্রতিবেদন ও নিয়োগের সুপারিশও পাঠানো হয়। শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে শিক্ষক নিয়োগ ও শূন্য পদ পূরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।