গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাণীগঞ্জ ও তারাগঞ্জ এলাকার মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত শীতলক্ষ্যা নদীর মাঝখানে জেগে উঠা ধাঁধার চর মৌজার উন্নয়ন কর গ্রহণের দাবিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর বুধবার দুপুরে ওই এলাকার শতাধিক সাধারণ কৃষক তাঁর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
ধাঁধার চর বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ তৈমুরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ পরাগ আহমেদ সাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, গাজীপুর-নরসিংদী জেলার সীমান্তবর্তী শীতলক্ষ্যা নদীর মাঝখানে জেগে উঠা চরের নাম ধাঁধার চর। কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ধাঁধার চর মৌজার খাজনা-খারিজ ও উন্নয়ন কর দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ কৃষকরা জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে।
ধাঁধার চর একটি মৌজা, সিএস, এসএ, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী কৃষকরা জোত জমির মালিক। জোতের পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদী ও পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদী অবস্থিত। উভয় নদীর তীরে ঘেঁষে যে খাস জমি রয়েছে, তা ধাঁধার চর নামে পরিচিত। আর এই খাস জমিতে কৃষকরা যুগ যুগ ধরে শুকানো মৌসুমে বিভিন্ন কৃষি ফসল উৎপাদন করে আসছেন। বর্ষাকালে অধিকাংশ খাস জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এখানে অল্প সংখ্যক বসতবাড়ি রয়েছে। কৃষক কৃষাণিরা ধাঁধার চরের পুরো জমিতে কৃষিকাজ করে থাকেন। বিভিন্ন জাতের ফল ও সবজি চাষ করে এ এলাকার মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
বিগত কয়েক বছর যাবত বিনা কারনে ধাঁধার চর মৌজার খাজনা-খারিজ ও ভূমি উন্নয়ন কর বন্ধ রয়েছে। ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি কৃষকরা তাদের জমি ক্রয় বিক্রয় করতে পারছেন না। কৃষকরা তাদের নামে রেকর্ডকৃত জমি ক্রয় বিক্রয় করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। ইতিপূর্বে তারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করে কোনো প্রতিকার পাননি।
স্মারকলিপিতে ধাঁধার চর মৌজার কৃষক কুল ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কৃষকদের জমির উন্নয়ন কর গ্রহণের জোর দাবি জানান।