শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী, বন্ধ হলো বিয়ে

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী, বন্ধ হলো বিয়ে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়েতে অংশ নিয়েছে তার ৩২ জন সহপাঠী। বাল্যবিয়ের তথ্য জানা থাকলেও বিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা প্রশাসনকে তা জানাননি। এমনকি দুই শিক্ষার্থী অনুমতি চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতিও দেন। অবশ্য পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়েটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন রামনগর গ্রামের এক কিশোরীর বাল্যবিয়ের খবর পায়। পরে পুলিশ প্রশাসন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আয়োজনের সত্যতা মেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত বিয়ে বন্ধ করা হয়।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, বিয়ের দিন দুপুরে রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ৩২ জন ছাত্রী তাদের সহপাঠীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বের হয়।

​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন জানান, ছাত্রীরা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল এবং বিয়েটি তাদেরই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর। বাল্যবিয়ের বিষয়টি জানার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন, দুজন শিক্ষার্থী এসে অনুমতি চাওয়ায় তাদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

​একই কথা স্বীকার করেন বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক রওশনারা খাতুন। তিনি বলেন, বিয়ে হওয়ার খবর তারাও শুনেছিলেন, তবে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

এদিকে খবর পেয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্না চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের সঙ্গে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিয়ের চেষ্টা করায় কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার মুচলেকা নেওয়া হয়। অভিযানে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে