বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, তথ্যপ্রযুক্তি, আউটসোর্সিং ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে কানাডার গভর্নর জেনারেল লুইস আরবুর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে একটি অভিনন্দনবার্তা হস্তান্তর করেন অজিত সিং। অভিনন্দনবার্তার জন্য রাষ্ট্রপতি কানাডার সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র চর্চায় কানাডার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
সাক্ষাতে কানাডার হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে। এই বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় কানাডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিনি।
কানাডার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সহযোগিতা বাড়ানোর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, তথ্যপ্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা, নার্সিং এবং চিকিৎসা খাতে কানাডার সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও সাক্ষাতে আলোচনা হয়। কানাডার হাইকমিশনার জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তার সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে। এই ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডাকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কানাডার রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস উপস্থিত ছিলেন।
কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
একই দিন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার আর্ল রবার্ট মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও সাক্ষাৎ করে।
এ সাক্ষাতে দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি, তৈরি পোশাক খাতে নারীদের প্রশিক্ষণ এবং এ খাতের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কেয়ার বাংলাদেশ বিভিন্ন কৃষি প্রকল্প, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে। সংস্থাটির চারটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি কেয়ার বাংলাদেশের এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাতে সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় অধ্যাপক মোম্মদ ফরাসউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।