দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি উদ্বেগজনক ও ভীতিপ্রদ হয়ে উঠছে। রাজধানীসহ সারা দেশে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় দুই হাজার রোগী, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। দপ্তরে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৯ জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকাতেই সর্বোচ্চ ৩ জন রোগীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণকারী মোট রোগীদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৫২ শতাংশ নারী।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির চিত্র তুলে ধরে বুলেটিনে জানানো হয়, রোববার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। এর ফলে চলতি বছরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৮ হাজার ৩৬০ জনে। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, বিগত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৮২ হাজার ৩৩৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), যার সংখ্যা ৪০১ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতালে ২০৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হাসপাতালে ২৩৩ (মূল তথ্যানুযায়ী ২২৩ জন) রোগী চিকিৎসাধীন হিসেবে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর এই ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে অবিলম্বে কার্যকর মশক নিধন অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের আরও বেশি সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।