এবারই প্রথমবারের মতো আয়োজন হতে যাচ্ছে মুসলিম চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী শনিবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে এসভিএ থিয়েটারে বসবে নিউইয়র্ক মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ঘণগঋঋ)। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম নির্মাতাদের গল্প, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতাকে সামনে আনতেই এই আয়োজন। একদিনের এই উৎসবে প্রদর্শিত হবে মোট ১২টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ডকুমেন্টারি, ড্রামা, কমেডি, অ্যানিমেশন ও পরীক্ষামূলক- বিভিন্ন ঘরানার সিনেমা থাকছে এবারের আয়োজনে। উৎসবটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিউইয়র্কভিত্তিক পরিচালক ও প্রযোজক নওয়াল মুবিন। তার সঙ্গে উৎসবটি আয়োজন করছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পোস্ট-প্রোডাকশন পেশাজীবী জিউসেপ্পে দে মাত্তেইস। উৎসবের ওয়েবসাইটে নওয়াল মুবিন বলেন, এই আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে আনন্দ, সংলাপ ও মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ। তার ভাষ্য, মুসলিমরা একটি বৈচিত্র্যময় বৈশ্বিক জনগোষ্ঠী; তাদের সংস্কৃতি, পরিচয় ও জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাও ভিন্ন। তাই মুসলিমদের গল্পও কোনো একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উৎসবে প্রদর্শিত সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাস্টিন মাশুফের ‘১৭.৭৪’। কারাগারে থাকা এক সাবেক গ্যাং সদস্যের গল্প নিয়ে তৈরি এই তথ্যচিত্রে গাজার মানুষের জন্য তার করা ছোট্ট একটি মানবিক উদ্যোগ কীভাবে সংহতি ও আশার বার্তা ছড়িয়ে দেয়, সেটি উঠে এসেছে। করিম এমারার ‘বাবা ইজ মেল্টিং’-এ বাবার গোপন দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ছেলের মুখোমুখি হওয়ার গল্প বলা হয়েছে। অন্যদিকে ‘বুকরা’-তে এক সিরীয় শরণার্থী কিশোরীর শেষবারের মতো বন্ধুর সঙ্গে ফুটবল খেলার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। ‘গুস্ল’-এ মৃত্যুপথযাত্রী বাবার কাছ থেকে ইসলামি দাফন-কাফনের নিয়ম শেখার দায়িত্ব পাওয়া এক ছেলের গল্প রয়েছে। আফগান নারীদের পরিচয় ও ঐতিহ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে কমেডি ‘হারাম সালামি’। এ ছাড়া ‘হেনা’, ‘মালিকা’, ‘মাই ফ্রেন্ড ইন দ্য জিঙ্গেল ট্রাক’, ‘সবর ও শুকর’, ‘দ্য বয় উইথ দ্য ডাইনোসর হেড’, ‘আনকোয়ালিফায়েড’, ‘ইয়া হানুনি’ প্রদর্শিত হবে উৎসবে। এসব সিনেমার গল্পে উঠে এসেছে মুসলিম জীবনের নানা দিক। যার মধ্যে আছে পারিবারিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, ধর্মীয় অনুশাসন, অভিবাসন, সংস্কৃতি, পরিচয়, হাস্যরস এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই।