দৌলতপুর সীমান্তে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১০

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
দৌলতপুর সীমান্তে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১০

কুষ্টিয়ার  দৌলতপুরে দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতার  জের ধরে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা টেংগর (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আরও ১০জন আহত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সীমান্তবর্তী  রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি মরারপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম মোস্তফা টেংগর ওই গ্রামের মৃত দয়োমের পুত্র । সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের  আহতরা হচ্ছে মরারপাড়া গ্রামের সুমন মিয়া (৫১),হাদু মন্ডল (৭২), রাশিদুল (৩৬), ফটিক (৫৭), বজলু (৫৬), আযাদ মন্ডল (৬৫) ও রাজু মন্ডল (৩৩)।

স্থানীয় বাসিন্দারা,জানান মরারপাড়া এলাকায় স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব শত্রুতার বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসলে সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদকদ্রব্য ও পাতার বিড়ি বিক্রির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর হামলা চালায় এ সময় গোলাম মোস্তফা টেংগর সহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের মাথা, হাত ও পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। 

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে।  হাসপাতালে নেওয়ার পথেই গুরুতর আহত গোলাম মোস্তফা টেংগরের মৃত্যু হয়। আহত অন্য দেরকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকায় চরম উত্তেজনায়, পুলিশ ও বিজেপি মোতায়েন করা হয়েছে।  সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মরারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা এলাকায় টহল জোরদার করেছে । নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

লপুলিশ জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহত গোলাম মোস্তফা টেংগরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ ঘটনার ম্যাপ মাত্র একদিন ঝঁনয দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুরে  রাজা( ২৭)নামে এক যুবকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে