চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারে উৎসবমুখর আয়োজনে ‘শহীদ জিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে পৌর ২ নং ওয়ার্ড পশ্চিম শ্রীরামদী বোদাই বেপারি বালু মাঠে এ আয়োজন করা হয়। ফাইনালে টিম টাইগার্সকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্থানীয় একতা স্পোর্টিং ক্লাব। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসাইন।
তিনি বক্তব্য বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও শৃঙ্খলার মনোভাব তৈরি হয়। তাছাড়া খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শরীর ও মন ভালো রাখে। আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সাংসদ এবং জেলা বিএনপির অভিভাবক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেব চাঁদপুরকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে আয়োজিত এই 'শহীদ জিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, চাঁদপুর দেশের প্রাচীনতম একটি পৌরসভা। অনেক সম্ভাবনা থাকার পরেও এই পৌর এলাকার মানুষের জীবন মানের তেমন একটা উন্নয়ন হয়নি। চাঁদপুর পৌরসভাকে সত্যিকারের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আপনাদের দোয়া এবং সমর্থন কামনা করছি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের দোয়া এবং ভালোবাসার চেয়ে বড় শক্তি আর কিছু নেই। আপনাদের
দোয়া এবং ভালোবাসাই আমার চলার পথে প্রধান শক্তি। ইনশাল্লাহ যদি আল্লাহ আমাকে চাঁদপুর পৌরসভার হিসেবে কবুল করেন, তবে কথা দিলাম আপনাদের ভালোবাসার সর্বোচ্চ প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ খান, মরন হাওলাদার, আনোয়ার ছৈয়াল চুন্নু মিয়া, আনোয়ার লস্কর,নাসির বেপারী সহ এলাকার গণমাণ্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি আরমান চৌকিদার, আলমগীর হোসেনসহ অন্যরা।
টুর্নামেন্টে মোট ১৬ টি দল অংশগ্রহণ করে। ফাইনাল খেলা পরিচালনায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন টুমু। একতা স্পোটিং ক্লাবের পক্ষে নাজমুল ২ আহাদ ২ এবং টিম টাইগার্স ক্লাবের পক্ষে ক্লাবের পক্ষে আওলাদ গোল করেন।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দল একতা স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়দের হাতে ২০ হাজার টাকা এবং রানার্স আপ দল টিম টাইগার্সকে ১০ হাজার টাকার প্রাইজমানি তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। ফাইনাল খেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রায় কয়েক হাজার দর্শক মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন। সেখানে প্রচুর নারী দর্শকও দেখা যায়।