সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রাকিবুল হাসানের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামির জামিন শুনানির জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
জামিন শুনানিতে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন দাবি করেন, রাকিবুল হাসান ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। রিমান্ডে নেওয়ার পরও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো তথ্য-উপাত্ত আদালতে জমা দিতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তাকে রাজনৈতিকভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন এই আইনজীবী।
মামলাটিতে রাকিবুল হাসানকে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে, ডিবিতে, হস্তান্তর করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে আরও দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর কারাগারে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়।
মামলার এজাহার ও নথিতে বলা হয়েছে, ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান ফেসবুকে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের সময় রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। ওই কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অডিওটি ১৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অডিওতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়েও রাকিবুল হাসানকে কথা বলতে শোনা যায় বলে মামলার সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমালোচনার কথাও উঠে এসেছে।
অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তদন্তে ডিএমপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা রাকিবুল হাসানকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে সরিয়ে ডিএমপি সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবারের শুনানি শেষে আদালত রাকিবুল হাসানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তার কারাগারে থাকা বহাল থাকল।