কালীগঞ্জে হাসপাতালে

পত্রিকার কাগজে রোগীকে দেওয়া হচ্ছে এক্স-রে রিপোর্ট

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
পত্রিকার কাগজে রোগীকে দেওয়া হচ্ছে এক্স-রে রিপোর্ট

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত খাম না থাকায় পত্রিকার কাগজ কেটে খাম তৈরি করে রোগীদের হাতে রিপোর্ট তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পত্রিকার কালি ও ধুলাবালি লেগে এক্স-রে রিপোর্ট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কোনো খাম নেই। তন্মধ্যে ২০ দিন ধরে পুরোনো পত্রিকার (দৈনিক আমার দেশ) কাগজ কেটে তাতে পিন দিয়ে খামের মতো তৈরি করে তার ভেতরে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, এক্স-রে রিপোর্ট সংরক্ষণের জন্য পত্রিকার কাগজ ব্যবহার করা অস্বাস্থ্যকর ও অপ্রত্যাশিত। পত্রিকার কাগজে থাকা ধুলাবালি ও কালি এক্স-রে রিপোর্টের সঙ্গে লেগে যাওয়ায় রিপোর্টের মানও নষ্ট হচ্ছে। এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যোগদানের পূর্বে এক্সরে রিপোর্ট খামের মধ্যেই দেওয়া হতো। ২০০ টাকা সরকারি ফি জমা দিয়ে এক্সরে রিপোর্ট করালে কি একজন রোগী রিপোর্টটি সুন্দর ভাবে রক্ষণা বেক্ষণের জন্য একটি খাম পাওয়ার অধিকার রাখে না ? 

কালীগঞ্জ হাসপাতালে এক্স-রে করাতে আসা আতাউল হোসেন নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে রিপোর্ট দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কাগজের তৈরি খামে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। পত্রিকার কাগজ থেকে ধুলাবালি ও কালি রিপোর্টে লেগে সেটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রিপোর্টটি তো আমরা ফ্রি করছি না। তাহলে একটি খাম দিতে অসুবিধা কোথায় ? শুনেছি হাসপাতালে বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের টাকা করা হয়। 

রবিউল ইসলাম নামে অপর এক রোগী বলেন, এক্সরে করার পর রিপোর্ট নিতে গিয়ে দেখি খামের বদলে পুরাতন ময়লাযুক্ত পত্রিকার কাগজের মধ্যে ফিল্মটি ঢুকিয়ে আমার হাতে দিল। আমার প্রশান একটি সরকারি হাসপাতালে খাম কেনার জন্য কি কোন বরাদ্দ দেওয়া হয় না ? আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কতটা উদাসীন হলে এভাবে রোগীর সেবা দিতে পারে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং) সামিউর রহমান বলেন,গত প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়ার খাম শেষ হয়ে গেছে। তারপর থেকে আমি নিজে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কাগজ কেটে খাম তৈরি করে তার মধ্যে ফিল্ম ধরে রোগীদেরকে দিচ্ছি।এভাবে রিপোর্ট দেওয়া বেশ অস্বস্তিকরও বটে।  বিষয়টি আমি আমার কর্তৃপক্ষকে প্রথমে মৌখিক এবং পরবর্তীতে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ যদি তারপরও ব্যবস্থা নানিলে তাহলে আমার কি করার আছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল রিপোর্ট সংরক্ষণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত নির্ধারিত খামের ব্যবস্থা করে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুনের  মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলো কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার কামরুজ্জামান বলেন, বাজেট না থাকাই রোগীর এক্সরে ফিল্ম সরাসরি হাতেও দেওয়া যাবে।পুরাতন পত্রিকায় মুড়িয়ে দিলে তাতে কোন অসুবিধা নেই।হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন,স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে