শেষ হয়ে আসছে আসন্ন হজের নিবন্ধনের মেয়াদ। চলতি বছরের ২৭ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম। আর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন শেষ হবে। তারপর সময় বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে না। প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীরা সাড়ে ৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত হবে। হজের জন্য সউদী আরব বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৫শ’হজযাত্রী এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭০ হাজার হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। কিন্তু ফাইনাল নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৩শ’ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১২ হাজার ৫শ’ হজযাত্রী। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগামী হজের কোটা সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। হজ এজেন্সিগুলোর মতে, হজযাত্রীরা হজের টাকা এতো আগে জমা দিতে অনীহা প্রকাশ করায় হজযাত্রীদের ফাইনাল নিবন্ধনে গতি বাড়ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হজযাত্রীর নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সউদী কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ওই চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতেই সউদী পর্বের অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ, টিকা প্রদান, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। আর সউদী সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের হজে গমন নিশ্চিত করতে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে ধর্মবিষয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, হজের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজ নিবন্ধন শেষের তাগিদ দেয়া হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ কোনোভাবেই ২৪ সেপ্টেম্বরের পর না বাড়ানো বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি জরুরি সার্কুলার জারি করেছে। সউদী সরকারের বেঁধে দেয়া সময়সূচি অনুযায়ীই গত ২৭ জুলাই থেকে চলতি বছরের হজ নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের হজের জন্য বাংলাদেশের অনুকূলে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা বরাদ্দ থাকলেও গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৭৪১ জন যাত্রী। তার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ২ হাজার ৬৭৬ জন। আর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতেই সউদী পর্বের অর্থ প্রেরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসার আবেদন, টিকাদান, হজ প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাব সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজযাত্রীদের ফাইনাল নিবন্ধনের সময় প্রায় শেষপর্যায়ে। এবার নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। অথ নির্ধারিত সময়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে ফাইনাল নিবন্ধন সম্পন্ন করা না হলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে আগামী হজে যাওয়া। সেজন্য তারা সরাসরি হজ এজেন্সির ব্যাংক একাউন্টে হজের টাকা জমা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, হজযাত্রীরা এবার গত বছরের ন্যায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার চরম বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি চেয়েছেন। গত হজের প্রাক্কালে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই সম্পন্ন করতে হয়েছে। তাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে হজযাত্রীদের। কারণ সরকারি হাসপাতালগুলোতে জনবলসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নানামুখী হয়রানি ও চরম ভোগান্তিতে ফেলে। চলতি বছর হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নির্বিঘ্ন ও সহজলভ্য করতে সরকারি হাসপাতালসহ সকল বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনিস্ট সেন্টারগুলোতে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার জন্য আবেদন এসেছে।
এ প্রসঙ্গে আবাবিল হজ গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ জানান, হজযাত্রীদের বিমান টিকিটের টাকা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আগামী রমজান মাসে লাগবে। সেক্ষেত্রে হজ নিবন্ধনে সহজিকরণ এবং টিকিটের টাকা পড়ে নেয়ার সুযোগ দিলে হজ কোটা পূরণ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে ধর্মমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ জরুরি।