উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রি মূল্য কম

তানোরে আউশ চাষ করে দিশেহারা কৃষকরা, নীরব দুর্ভিক্ষের শঙ্কা

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
তানোরে আউশ চাষ করে দিশেহারা কৃষকরা, নীরব দুর্ভিক্ষের শঙ্কা
কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর উপজেলার অর্থনীতি সম্পূর্ণ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ ধান চাষাবাদের আয় দিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু চলতি আউশ মৌসুমে ধানের নজিরবিহীন লোকসানে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো উপজেলায় আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ ধানের চাষাবাদ করা হয়। এসব জমিতে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, তানোর পৌরসভার জিওল গ্রামের পূর্বেদিকে বিল পাড়ে অবস্থিত উপজেলার সরনজাই ইউপির রহিমাডাঙ্গা মৌজা। সেখানে ৯২ হেক্টর বা ৬৯০ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এরমধ্যে সাড়ে ৬০০ বিঘা জমিতে ৫৭, ৬৫ ও ৭৬ জাতের আউশ ধান রোপণ করেছিলেন কৃষকরা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এই ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হলেও কৃষকদের মুখে কোনো হাসি নেই। এবারে আউশ ধান চাষে সার ও কীটনাশক সিন্ডিকেটে দ্বিগুণ দামে ক্রয় করতে হয়। এতে কৃষকদের গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। মাঠপর্যায়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ধান রোপণ ও পরিচর্যা খরচ ৮ হাজার টাকা, কাটা ও বহণ খরচ ৫ হাজার টাকা এবং মাড়াই খরচ বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতি বিঘার উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের মোট ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবিঘায় উৎপাদিত ধানের ফলন হচ্ছে (২৮ কেজিতে) ২০ মণ। এসব প্রতিমণ ধান খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে। বিপরীতে, বর্তমান বাজারে এই উৎপাদিত ধান বিক্রি করে কৃষকরা পাচ্ছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকা। ফলে লাভ তো দূরের কথা, প্রতিবিঘা জমিতে কৃষকদের সরাসরি ৩ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। পুরো তানোরজুড়ে একই চিত্র। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম চরম কম থাকায় তানোরের প্রান্তিক কৃষকরা এখন এক নীরব দুর্ভিক্ষের মধ্যে দিন যাপন করছেন। তানোর পৌর এলাকার জিওল গ্রামের কৃষক ওমর হাজী এবং বুরুজ গ্রামের কৃষক জুয়েলসহ ওই এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক এই চরম লোকসানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ধার-দেনা এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা আউশ আবাদ করেছিলেন। এখন বিঘাপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে লোকসান হওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, সংসারের দৈনিক খরচ চালানোই তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিল পারের রহিমাডাঙ্গা মৌজার সাড়ে ৬০০ বিঘার এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং কৃষকদের বাঁচাতে সরকারি পর্যায়ে দ্রুত ধান কেনা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। এব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণ করে থাকে কৃষি বিপণন বিভাগ। আর কৃষি দপ্তর চাষাবাদ কিভাবে হবে, কিভাবে রোগবালা দূর হবে এসব নিয়ে কাজ করে। তবে, আউশ আবাদের পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে কৃষকদের কীটনাশক প্রয়োগে সঠিক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফলে আউশ ধানের মোটামুটি ভাল ফলন হয়েছে বলে জানান তিনি। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে