জামায়াতের এমপি নির্বাচিত এলাকায়

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, এমন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, বিএনপিকে জনগণের কাছে বিতর্কিত ও হেয় করতে একটি রাজনৈতিক দল এসব এলাকায় সারের সংকট তৈরি করে আন্দোলন করেছে। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এমন এলাকায় সারের সংকট নিয়ে কোনো আন্দোলন হয়নি।

বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সামনে লাল চিহ্নিত একটি মানচিত্র প্রদর্শন করে মীর শাহে আলম বলেন, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নড়াইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় সারের সংকট দেখানো হয়েছে। এসব এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে সারাদেশে যেসব এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে সারের কোনো সংকট হয়নি।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘এ থেকে প্রমাণিত হয়, একটি রাজনৈতিক দল বিএনপিকে বিতর্কিত করার জন্য, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য যে এলাকায় তারা নির্বাচিত, সেই এলাকায় তাদের নেতা-কর্মীদের দিয়ে সারের সংকট তৈরি করে আমাদের হেয় করার চেষ্টা করেছে।’

কুড়িগ্রামে সারের সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে সময়ে সারের সংকটের কথা বলা হয়েছে, ওই সময়ে দেশের কোথাও সারের সংকট ছিল না। কুড়িগ্রামেও কোনো সংকট ছিল না। একটি রাজনৈতিক দল ও ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের নিয়োগ করা’ কিছু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের ডিলারদের পাশাপাশি প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেছে। যেসব এলাকায় সারের ডিলার পালিয়ে গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, সেসব এলাকার শূন্য পদেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক বিএনপি নেবে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। বিরোধী দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দল লং মার্চ করেছে। গণতান্ত্রিক দেশে লং মার্চ করার অধিকার সবার আছে। তবে শত শত গাড়ির বহর নিয়ে লং মার্চ করা হয়েছে। পায়ে হেঁটে করলে সেটি লং মার্চ, গাড়ির বহর নিয়ে করলে সেটিকে রোড মার্চ বলা উচিত ছিল। তাঁরা একটি রাজনৈতিক দল, তাই তাঁদের ভুল ধরতে চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা ও কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন সভায় অংশ নেন।

এ সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হক চৌধুরী ডন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মমিনুল, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসানাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে