চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে তিনজন চিকিৎসাধীন রোগী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পুরুষ ওয়ার্ডের সার্জারি বিভাগে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুরোনো ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে হাসপাতালটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা হলেন-রফিকুল ইসলাম (৭০), আকতার হোসেন (৮০) এবং আবুল খায়ের (৪৫)। এর মধ্যে আবুল খায়ের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাওয়ায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকালে স্বাভাবিক সময়ের মতোই সার্জারি ওয়ার্ডে রোগীরা চিকিৎসাধীন ছিলেন। হঠাৎ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছাদের একটি বিশাল অংশের পলেস্তারা খসে রোগীদের ওপর পড়ে। এর আগেও শিশু ওয়ার্ডসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে একইভাবে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনায় এখন হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিজের নিরাপত্তার শঙ্কায় থাকা একাধিক রোগীর স্বজন জানান, "সেবা নিতে এসে যদি জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়, তবে মানুষ কোথায় যাবে? বারবার এমন ঘটনা ঘটছে শুনেও কর্তৃপক্ষ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না।" তারা অবিলম্বে এই জরাজীর্ণ ভবনের নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহাবুবুর রহমান। তিনি আহত রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন।
সামগ্রিক বিষয়ে ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান বলেন, "হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও বর্তমানে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি-প্রায় ৬০০ রোগী নিয়মিত ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত এই মানবচাপ পুরোনো অবকাঠামোর ওপর সৃষ্টি করছে প্রচণ্ড চাপ। ভবনটি বেশ পুরোনো হওয়ায় আমরা ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। পাশাপাশি চাঁদপুরবাসীর উন্নত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন ভবনের নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।"
সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম এই কেন্দ্রটিতে দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।