সুদের জালে নিঃস্ব পুলিশ সদস্যের বিধবা স্ত্রী

বাবুগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম; বাবুগঞ্জ, বরিশাল) : | প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
বাবুগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দীর্ঘদিন পুলিশে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান মতিউর রহমান ঢালী। মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী সফুরা বেগম (সবুর বেগম) এখন বসতভিটা ও মায়ের কবরের জমি রক্ষায় প্রতিবেশী ও রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রামপট্টি গ্রামের বাসিন্দা সফুরা বেগমের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে পারিবারিক প্রয়োজনে প্রতিবেশী ও রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাদেক হোসেনের কাছ থেকে সুদে ১৪ হাজার টাকা ধার নেন তিনি। পরবর্তীতে ধার করা টাকার বড় একটি অংশ পরিশোধ করলেও সুদের হিসাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

সফুরা বেগমের দাবি, ওই ঋণের বিপরীতে তার স্বামী মরহুম মতিউর রহমান ঢালীর মালিকানাধীন ৯ শতাংশ জমি বন্ধক হিসেবে দখলে নেন ইউপি সদস্য সাদেক হোসেন। পরবর্তীতে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে জমি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলেও সাদেক হোসেন টাকা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর থেকে ওই ৯ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্যের দখলে রয়েছে বলে দাবি সফুরা বেগমের।

তার অভিযোগ, বাড়ির সামনে থাকা আরও ৪ শতাংশ জমিতে তার মায়ের কবর রয়েছে। একই জমি তিনি নিজের মৃত্যুর পর দাফনের জন্যও নির্ধারণ করে রেখেছেন। কিন্তু ইউপি সদস্য সাদেক হোসেন ওই ৪ শতাংশ জমিও নিজের কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করছেন এবং জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সফুরা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সফুরা বেগম বলেন, সুদের টাকার অজুহাতে আমার সবকিছু শেষ করে দিতে চায়। কয়েক বছর আগে বাকি টাকা ফেরত দিতে চাইলেও টাকা নেয়নি। জোর করে ৯ শতাংশ জমি রেখে দিয়েছে। এখন আমার মায়ের কবর দেওয়া ৪ শতাংশ জমিও নাকি সে কিনেছে। আমি মারা গেলে আমাকে কোথায় দাফন করা হবে? সফুরা বেগম আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ইউপি সদস্যের পক্ষ থেকে তিনি বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯ শতাংশ জমি এবং কবর থাকা ৪ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা, বন্ধক, ঋণের লেনদেন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড, দলিলপত্র ও জমির সীমানা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিরোধের প্রকৃত কারণ ও মালিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাদেক হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে