নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলের উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পরও মাদক নির্মূল সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এবার মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসা ও সেবনের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্রমেই বিঘ্নিত হচ্ছে। মাদকের নেতিবাচক প্রভাব থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন নানা উদ্যোগ নিয়ে আসছেন। তবে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় এবার আরও কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুল ইসলাম মানিক, বিএনপি নেতা ডা. জহিরুল হক, রসুলপুর সামাজিক সংগঠন ‘প্রবাহ ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান উপদেষ্টা মো.তারিকুল আলম আরবী,বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক ওবায়দুল ইসলাম,আব্বাস আলী এবং রসুলপুর মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ আব্দুল ওয়াহিদ আশরাফীসহ স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে ওঠায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তারা।
এলাকাবাসী বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি মহল্লায় স্থানীয়দের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। তাই এর বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর নজরদারি থাকলে মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান সামাজিক আন্দোলন তারা অব্যাহত রাখতে চান। তাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ অন্য ওয়ার্ড ও মহল্লাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে এবং সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে সৈয়দপুরে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।