রায়পুরে রেললাইন সম্প্রসারণে প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ: পানিসম্পদমন্ত্রী

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
রায়পুরে রেললাইন সম্প্রসারণে প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ: পানিসম্পদমন্ত্রী

চৌমুহনী থেকে লক্ষ্ণীপুর হয়ে রায়পুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্ণীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, এ নিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি ও কারিগরি সমীক্ষা চলছে। এক ধাপে সম্ভব না হলে দুই ধাপে হলেও রায়পুরে রেললাইন নেওয়ার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। শনিবার দুপুরে লক্ষ্ণীপুরের রায়পুর উপজেলার প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ ও প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একাদশ ও ডিপ্লোমা প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “চৌমুহনী থেকে লক্ষ্ণীপুর হয়ে রায়পুর পর্যন্ত এই রেললাইনটা নিয়ে যেতে পারি। এখানে কিছু ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে, কারিগরি সমীক্ষা। আমরা আশা করছি, হয়তো এক ধাপে হতে পারে, নয়তো দুই ধাপে হলেও রায়পুরে যে রেললাইন, সেটা দৃশ্যমান করার জন্য আমরা প্রজেক্ট হাতে নিব।

তিনি জানান, রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রায়পুরের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকীর শিক্ষা বিস্তারে অবদানের কথা তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, কাজী ফারুকী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ধানমন্ডিতে ‘ঢাকা কমার্স কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি পরে মিরপুরে স্থায়ীভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায় শিক্ষা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের চিন্তা থেকে কাজী ফারুকী ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই রায়পুরের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের শুরুতেই ফলাফল খারাপ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক বা উচ্চশিক্ষিত হওয়ার লক্ষ্য থাকলেও কোনো পর্যায়ে ব্যর্থতা এলে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই প্রকৃত শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না; শিক্ষার সঙ্গে চরিত্র ও নৈতিকতার সমন্বয় প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক লক্ষ্ণীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, রায়পুরের সড়ক যোগাযোগ ও শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়নে অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে যেসব সড়ক ও উন্নয়নকাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, রায়পুরের সড়কগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ চলছে। পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আবুল খায়ের ভূঁইয়া আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষার্থীরা যাতে দেশ ও বিদেশে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর কাজী ফারুকীর একমাত্র ছেলে শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক ডা. কাজী মো. নূর-উল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার ও রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া। এ সময় রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়া, প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার কাজী রাসেল, প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, কেএফসি শিশু কাননের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম টিপুসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে