আমতলীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের প্রিয় মুখ, সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না এক সপ্তাহের সরকারি ও পেশাগত সফরে সুইডেনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সুইডেনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সফরকালে তিনি সুইডেনের মালমো শহরে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। দাতা সংস্থা ঝওউঅ-এর সহযোগিতায় ইধৎহভড়হফবহ ওহংধসষরহমংংঃরভঃবষংব-এর আমন্ত্রণে আয়োজিত এ সফরে বিভিন্ন দেশের অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্টনার্স মিটিং, দাতা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, প্রকল্প-সংক্রান্ত সংলাপ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সফরে অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা, উপকূলীয় অঞ্চলে এর বিরূপ প্রভাব, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগ ও কৌশলসহ দেশের উন্নয়ন বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সফল উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন।
দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না আমতলীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি আমতলী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, পিপলস ভয়েস অব আমতলী (চঠঅ)-এর অ্যাডমিন, আমতলী উদীচীর সংগঠক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন পরিচিত মুখ। গণমাধ্যম, মানবিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা আমতলীর বিভিন্ন মহলে আলোচিত। বিশেষ করে উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শিশু সুরক্ষা, নারী ও সামাজিক উন্নয়ন এবং নাগরিক সচেতনতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এনএসএসের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তিনি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে আসছেন।
সুইডেন সফরকে স্থানীয়ভাবে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সফর হিসেবে নয়, বরং আমতলীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তবতা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকায় যে বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ছে, তা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্নার এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জলবায়ু অভিযোজন, সামাজিক সুরক্ষা ও জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে-এমন প্রত্যাশা আমতলীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের। সফর শেষে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান স্থানীয় পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে উপকূলের মানুষের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।