ইংল্যান্ডের চলমান আন্তর্জাতিক ক্যাম্প থেকে কোল পালমার ও কোবি মাইনুর সরে দাঁড়ানো নিয়ে প্রতিযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন কোচ থমাস টুখেল। তাঁর মতে, জাতীয় দলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় থাকতে হলে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্যাম্পে উপস্থিত থাকা এবং সেখানে নিজেদের সামর্থ্য দেখানো গুরুত্বপূর্ণ।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেন, চেক প্রজাতন্ত্র ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ব্যস্ত সূচির আগে পালমার ও মাইনুর অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডের দলে জায়গার প্রতিযোগিতাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। টুখেল জানিয়েছেন, যারা জাতীয় দলে থাকতে চান, তাদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্যাম্পে নিয়মিত উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, কোনো খেলোয়াড় একটি ক্যাম্পে না থাকলে একই পজিশনে অন্য কেউ ভালো পারফর্ম করলে প্রতিযোগিতা চলতেই থাকবে।
টুখেলের ভাষায়, ‘খেলোয়াড়েরা খুব ভালোভাবেই জানে, আপনি যদি একটি ক্যাম্প মিস করেন এবং আপনার পজিশনে অন্য কেউ ভালো থাকে, তাহলে প্রতিযোগিতা সবসময়ই থাকবে।’
তবে এটিকে কোনো সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন না ইংল্যান্ড কোচ। তিনি বলেন, জাতীয় দলের দরজা সবার জন্য খোলা থাকবে। কিন্তু দলে জায়গা ধরে রাখতে হলে ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে নিজেদের পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
টুখেল বলেন, ‘দরজা সবসময় খোলা থাকবে। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি উপস্থিত আছেন, ক্যাম্পে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিচ্ছেন। আপনি যদি তা করেন, সেটি কোনো না কোনোভাবে মূল্য পাবে। এখন এটি আমার উদ্বেগের তালিকায় নেই।’
পালমারের বিষয়ে টুখেল জানান, চেলসির এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের নতুন কোনো চোট হয়নি। তবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাঁর অস্বস্তি ও ব্যথা। চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে নিয়মিত খেললেও ইংল্যান্ডের হয়ে তাঁর অংশগ্রহণ বেশ অনিয়মিত। মার্চে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর ইংল্যান্ডের জার্সিতে মাঠে নামেননি ২৪ বছর বয়সী পালমার।
পালমারের এই আন্তর্জাতিক ক্যাম্পও মিস করাকে একটি সুযোগ হারানো হিসেবে দেখছেন টুখেল। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, এটি আরেকটি হারানো সুযোগ। সে অনেক সুযোগ মিস করছে। আমি তাকে এজন্য দোষ দিচ্ছি না, এটি শুধু একটি বাস্তবতা। কিন্তু চোটের কারণে সে অনেক বেশি ক্যাম্প মিস করছে।’
টুখেল আরও বলেন, তিনি তাঁর দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে সরাসরি ক্যাম্পে দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে চান। তাঁর মতে, দলের সঙ্গে মাঠে না থাকলে একজন খেলোয়াড়ের আরও উচ্চ পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয় না।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন টুখেল। তাঁর দাবি, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলার পরও কেইন আন্তর্জাতিক ক্যাম্পে থাকতে আগ্রহী।
টুখেল বলেন, ‘সবাই এখানে আসতে মরিয়া। আমাদের অধিনায়ক ক্লাব ও দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলেছে এবং কিছু সতীর্থ যখন সাত বা ১০ দিনের বিরতি উপভোগ করছে, তখনও সে এখানে থাকতে খুশি। এটাই আমরা আদর্শ হিসেবে দেখতে চাই।’
পালমার ও মাইনুকে নিয়ে সরাসরি কোনো শাস্তি বা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের কথা না জানিয়ে টুখেল বলেন, ‘কোনো হুমকি নেই, কোনো অবিশ্বাস নেই এবং কোনো পরিণতির হুমকিও নেই। বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসবে।’
এদিকে ইংল্যান্ডের সামনে স্পেন, চেক প্রজাতন্ত্র ও ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে টানা তিন ম্যাচের সূচি। এই ব্যস্ততার মধ্যেই জাতীয় দলে নিয়মিত উপস্থিতি ও পারফরম্যান্সের গুরুত্বের বিষয়টি সামনে আনলেন টুখেল।