যশোর বোর্ডের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের চিঠি, জনমনে হতাশা

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
যশোর বোর্ডের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের চিঠি, জনমনে হতাশা

শিক্ষা বোর্ডের মূল দায়িত্ব হলো পরীক্ষা পরিচালনা, ফল প্রকাশ, সনদ প্রদান এবং মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কিন্তু বোর্ডের কার্যক্রমে যদি সন্দেহ, তঞ্চকতা বা দায়সারা পরিলক্ষিত হয়; তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার ছায়া, প্রচ্ছায়ার লেশ লাগতে পারে কিনা- প্রশ্ন থেকে যায় জনমনে। 

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর এর অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের ৩টি পত্র আমাদের হাতে পৌঁছেছে। পত্র তিনটি জনমনে সংশয়, উদ্বেগ ও বিস্ময়ের উদ্রেক করেছে। 

প্রথম পত্রের স্মারক সংখ্যা-বিঅ-৬/৪৯৫৭/৩৭.১১.৪০৪১.৫০১.০১.৬.২০.২৩৮১৮ তারিখ: ০১-০৬-২০২৬ খ্রি। পত্রে ইউনাইটেড একাডেমী, প্রতাপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয় মোঃ মুজিবুর রহমানকে। স্বাক্ষর করেন বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান। অনুমোদিত কমিটি যথারীতি কার্যক্রম শুরু করেন এবং ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল পর্যালোচনা করতে এবং ২০২৭ সালের পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বিষয়ে ও ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ করা, প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে এ্যাটাস্ট ওয়াশরুম নির্মান, নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠান, কমিটির দু'টি মিটিং করা, সেশান চার্জের টাকা শিক্ষকদের মাঝে ভাগ না করে স্কুলের উন্নয়নে কাজে লাগান, বিদ্যালয়ে স্কুল শুরুর পূর্ব সময়ে প্রাইভেট ও কোচিং বন্ধ করাসহ বেশ কিছু কাজ কমিটি করেন। 

কমিটি যখন সকলের মন জয় করে কাজ করে আসছিল, ঠিক সেই মুহুর্তে মাত্র ৩ মাসের মাথায় ৯-৯-২৬ তাং পুনরায় একই স্মারকে পৃথক পত্রে জনাব মুশফিকুজ্জামানকে সভাপতি মনোনীত করে পৃথক অ্যাডহক কমিটি অনুমোদ দেয়া হয়। স্বাক্ষর করেন একই কর্মকর্তা প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান। আশ্চার্যের বিষয় হলো, উক্ত প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান তখন দায়িত্বে ছিলেননা। তাঁকে ২৩ জুন ২০২৬ তাং সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর বদলী করায় তিনি সেখানে যথারীতি যোগদান করে কর্মরত ছিলেন। জুন মাসে অন্যত্র বদলী হয়েও তিনি কিভাবে সেপ্টেম্বর মাসে বোর্ডে কর্মকর্তা হিসাবে স্বাক্ষর করলেন! বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে আবারও পৃথক পত্র ইস্যু করা হয়। এবারও একই স্মারকে ০৯/০৯/২৬ তারিখে বিদ্যালয় পরিদর্শক মুঃ এনামুল কবীর কমিটি অনুমোদন পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু হতবাক করা কান্ড হলো নামে পরিবর্তন আনা হলেও স্বাক্ষর কিন্তু তিনি করেননি বরং স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান এঁর। সেই ভুতের আছর পাওয়া কর্মের মত স্বাক্ষর সম্বলিত পত্র দেখে সচেতন মহল, অভিভাবক মহলসহ সর্ব সাধারণ হতাশ ও চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। 

অপর দিকে উপজেলার তুয়ারডাঙ্গা হাজী ফেরাজুল্লাহ (এইচ.এফ.) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং: ১১৯৫৭/২০২৬ করেছেন আলী রাহুজ্জামান।

রিটকারীর অভিযোগ, ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের দুটি স্মারকের মাধ্যমে হাসিব ইকবালকে তুয়ারডাঙ্গা হাজী ফেরিজুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদে রিটকারীর স্থলে বসানো হয়েছে। রিটকারীর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল- ৮ জুন ২০২৬-এর সিদ্ধান্তটি কোনো লিখিত আদেশ নয়; এটি মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। কোনো কারণ বা আইনগত যুক্তি উল্লেখ না করে এমন মৌখিক নির্দেশ দেওয়া আইনসম্মত নয়। সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী কিছু ক্ষমতা বোর্ডের, চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা নয়। কোনো বৈধ শোকজ নোটিশ, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা তদন্ত করা হয়নি। রিটকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। বিজ্ঞ আদালত রিটকারীর বক্তব্য বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে (ঢ়ৎরসধ ভধপরব) মামলা করার মতো বিষয় আছে বলে মনে করেছেন। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে জঁষব ঘরংর জারি করেছেন। এবং ১৩ আগস্ট ২০২৬-এর বিতর্কিত আদেশের কার্যকারিতা ৩ মাসের জন্য স্থগিত থাকবে। এব্যাপারে বিদ্যালয় পরিদর্শক মুঃ এনামুল কবীরের বক্তব্য নিতে পত্রে উল্লেখিত টেলিফোনে রিং করলে রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে