মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে তেলের দাম কমানোর চেষ্টা করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে তেলের দাম কমানোর চেষ্টা করবে সরকার
ছবি: সংগ্রহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, সংকট কেটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে বাংলাদেশেও দ্রুত তেলের দাম কমানোর চেষ্টা করবে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশ। দেশে জ্বালানি তেল উৎপাদন হয় না। বাংলাদেশ যে অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করে, সেখানে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে। বিভিন্ন দেশে এ কারণে তেলের দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও বীমা ব্যয়ও বেড়েছে। বিশেষ করে বীমা প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রায় ছয় মাস সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ওই সময়ে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত দাম সমন্বয়ের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংকট কেটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল বা কমে এলে দেশের বাজারেও দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের যোগান বাড়াতে বাসাবাড়ি ও স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার বলে জানান তিনি।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে মানসম্মত সরঞ্জাম আমদানির জন্য নীতিমালা করা হচ্ছে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মতবিনিময় সভায় নাগরিক সেবার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, হাসপাতালগুলোতে পদ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে জনবল নেই। মেহেরপুর জেলার সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে নাগরিক সেবা বাড়ানো যায়।

জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, বিজিবি-৬-এর পরিচালক নাজমুল হাসান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম, জেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

এক দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সকালে সড়কপথে কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরে যান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিকেলে তাঁর মেহেরপুর ত্যাগ করার কথা ছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে