রাত তখন ১০টা ৩৫ মিনিট। শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখতে বের হয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান। সঙ্গে ছিলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর।
শহর পরিদর্শনের একপর্যায়ে তারা যান ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে। মাঠের গ্যালারির সামনে-পেছনের ঘুটঘুটে অন্ধকারে কয়েকজন কিশোর-তরুণকে বসে থাকতে দেখা যায়। কারও হাতে মোবাইল ফোন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেখে কারও মধ্যে দেখা দেয় অস্বস্তি, কেউ আবার সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে।
গভীর রাতে অন্ধকার জায়গায় বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। কেউ ভবিষ্যতে আর এভাবে রাতের বেলায় অন্ধকারে বসে থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। আবার একজন জানায়, ওই স্থানে আজই প্রথমবার এসেছে। পরে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও প্রার্থনা করে। তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বুঝিয়ে বলেন, গভীর রাতে অযথা বাইরে না থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। পরে তাদের নিজ নিজ বাসায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের শহরের রাতের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময় ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে এ দৃশ্য দেখা যায়। শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম দেখতে গিয়ে কিশোর-তরুণদের এমন অবস্থায় পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অন্ধকার ও নির্জন স্থানে কিশোরদের অবস্থান তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কিশোর-তরুণদের ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতনতা, অভিভাবকের নজরদারি এবং প্রশাসনের মানবিক ভূমিকা। অন্ধকারে নয়-আলোর পথেই এগিয়ে যাক আগামী প্রজন্ম।