হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৯২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং এক হাজার ২৫৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫ জন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন ও কন্ট্রোলরুমের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। হিসাবটি সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছে। তবে নিশ্চিত হামে এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গে মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মারা গেছে ৪৩৩ জন। এরপর সিলেট বিভাগে ১৬৯ জন, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৬, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪১ এবং রংপুরে ১৪ জন মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ হাজার ২৫৭ জন রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৭৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা বিভাগে ৩৬৫ জন, চট্টগ্রামে ২৫০, সিলেটে ১৬৮, বরিশালে ১২৩, খুলনায় ১২৩, ময়মনসিংহে ৭৫, রাজশাহীতে ২৭ এবং রংপুরে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৮০ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫১০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৭৩৮ জনের মধ্যে।
শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সন্দেহ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তবে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব সন্দেহভাজন রোগীর হাম পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।