মানুষের সবচেয়ে পুরোনো পোষা প্রাণী হিসেবে পরিচিত কুকুর। প্রভুভক্তি, সতর্কতা ও বিশ্বস্ততার কারণে যুগ যুগ ধরে মানুষের বসতবাড়ির নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রাণীটি। খাবার দেওয়া হোক বা না হোক, রাতভর বাড়ির আশপাশ পাহারা দিয়ে যায়। ক্ষুধার্ত হলে নীরবে মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। অথচ অসুস্থ কিংবা বিপদগ্রস্ত হলে সেই প্রাণীটির পাশে দাঁড়ানোর মানুষ যেন খুঁজে পাওয়া যায় না। সৈয়দপুরে এমনই এক অসুস্থ কুকুর কয়েকদিন ধরে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পড়ে রয়েছে। মানুষের চোখের সামনে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রাণীটি। অসুস্থ কুকুরটির চিকিৎসা বা পরিচর্যার জন্য এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, অসুস্থ কুকুরটি ময়লা-আবর্জনার মধ্যে কাতর অবস্থায় পড়ে আছে। শারীরিক দুর্বলতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও পারছে না। পথচারী ও স্থানীয়রা পাশ দিয়ে যাতায়াত করলেও প্রাণীটির চিকিৎসা বা উদ্ধারে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তবে ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে এলাকার চার শিশু। অসুস্থ কুকুরটির প্রতি মায়া জন্মেছে তাদের। তারা দীর্ঘ সময় প্রাণীটির পাশে বসে থেকে শুধু তাকিয়ে দেখছে। ছোট্ট শিশুদের চোখেমুখে কুকুরটিকে বাঁচানোর আকাঙ্ক্ষা থাকলেও নিজেদের সামর্থ্য না থাকায় তারা কিছুই করতে পারছে না। অসহায় প্রাণীটির পাশে বসে থাকা ওই শিশুদের দৃশ্যটি সেখানে এক হৃদয়স্পর্শী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মানুষের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় বছরের পর বছর ভূমিকা রাখা প্রাণীটি অসুস্থ হলে তার দায়িত্ব কি কারও নেই? প্রতিটি উপজেলায় সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা থাকলেও পথপ্রাণীর চিকিৎসায় সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
কুকুরের কামড়, আঁচড় কিংবা লালার মাধ্যমে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে এ কারণে অসুস্থ বা আক্রমণাত্মক প্রাণীর ক্ষেত্রে মানুষেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে সতর্কতার পাশাপাশি অসুস্থ প্রাণীকে নিরাপদে উদ্ধার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রাণীকল্যাণ সংগঠনগুলোর রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সচেতন নাগরিকদের মতে, অসুস্থ প্রাণীকে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে ফেলে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। বিশেষ করে শিশুদের সামনে এমন অসহায়ত্বের দৃশ্য তাদের মনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত কুকুরটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সৈয়দপুরের ওই অসুস্থ কুকুরটির দিকে সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষ এবং প্রাণীকল্যাণে কাজ করা সংগঠনগুলোর জরুরি নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চার শিশুর মমতায় ঘেরা প্রাণীটি শেষ পর্যন্ত বাঁচবে কি না এখন সেটিই প্রশ্ন।