মণিরামপুরে ইউএনও'র হস্তক্ষেপে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিবাহ রোধ

এফএনএস (জি. এম ফারুক আলম; মণিরামপুর, যশোর) : | প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
মণিরামপুরে ইউএনও'র হস্তক্ষেপে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিবাহ রোধ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন -এর হস্তক্ষেপে অষ্টম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। সোমবার ইউএনও'র এই মহতি উদ্যোগকে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে গায়েহলুদে বসা ওই ছাত্রী এবার অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কোমল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, রোববার (২০সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলার খাটুয়াডাংগা গ্রামে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে দেখি খাটুয়াডাংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীর গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের কার্যক্রম হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীর অভিভাবক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক'সহ উপস্থিত গণ্যমান্য লোকজনদের সাথে ইউএনও স্যারের নির্দেশনা এবং তাঁর বক্তব্যগুলো উপস্থাপন করা হয়। এক পর্যায়ে গায়েহলুদ দেওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই ছাত্রীর বাবা-মা সাূা কাগজে লিখিত অঙ্গীকারবদ্ধ হন। সেখানে উল্লেখ করেন মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত না করে এবং আঠারো বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবোনা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী জানান, সকালে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় মোবাইলে আমাকে জানান, আপনার প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গ্রামে এক ছাত্রীর বিবাহ হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ঘটনাটি সঠিক। এ সময় নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক ইউপি সচিব কেমল চন্দ্র বিশ্বাসকে নিয়ে ছাত্রীর বাবা-মা'র সাথে কথা বলে গায়েহলুদ অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। প্রধান শিক্ষক আরও জানায়, মেয়েটি তাঁর বিদ্যালয় থেকে এবার অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে এবং সে খুব মেধাবী ছাত্রী। খাটুয়াডাংগা গ্রামের মাওলানা আজিজুর রহমান, আবু সাইদ, রুস্তম আলী, রমজান আলী, জিয়াউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজ একজন মেধাবী ছাত্রীর ভবিষ্যৎ জীবন রক্ষা করলেন। বর্তমান ইউএনও'র এমন বাল্যবিবাহ রোধকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, এলাকাবাসীর খবর পেয়ে মেধাবী ছাত্রীর বাল্য বিবাহটি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসব নিয়ে একাধিকবার উপজেলার পৌরসভা এবং পাড়া-মহল্লায় সচেতনতামূলক সেমিনার করা হয়েছে। তবে, শতভাগ নির্মুল করতে হলে সকলকে আরও বেশি আন্তরিক ও সচেতন হতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে