যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিলো ইরান, না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি

এফএনএস (অনলাইন ডেস্ক): | প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিলো ইরান, না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিরসনে ও আলোচনায় ফিরতে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় এসব শর্ত মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের বার্তা পরিষ্কার-যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব দাবি মেনে না নেয়, তবে অঞ্চলটিতে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ সম্মুখীন হতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই এই শর্ত পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দোহার মাধ্যমে তেহরানের বার্তা ইতিমধ্যে মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ইরান এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

মহসিন রেজাই জানান, ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে কার্যকর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে অবরুদ্ধ থাকা ইরানি আর্থিক সম্পত্তি মুক্ত করা এবং দেশটির ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে রেজাই উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যেকোনো নতুন সংলাপ শুরু করার পূর্বশর্ত হিসেবেই এই ৭ দফা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনকে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে হলে ইরানের এই ন্যায্য শর্তগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজাই আরও বলেন, “ধমক বা হুমকি দিয়ে ইরানের কাছ থেকে কিছুই আদায় করা সম্ভব নয়। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে শতভাগ প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, গত মাসে পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতার ও পাকিস্তানের উদ্যোগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর প্রচেষ্টা চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল, তা প্রশমনে আঞ্চলিক দেশগুলোও জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে উল্লেখ করে রেজাই জানান, মার্কিন বাহিনী নতুন করে ফের বিমান হামলা চালাতে পারে—এমন শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে নিজেদের নতুন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন রণতরীর কাছাকাছি লক্ষ্যবস্তুতে বহু-সংযুক্ত ওয়ারহেডসহ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে পরীক্ষা করার দাবিও করেন তিনি।

নিরাপত্তা প্রধানের হুঁশিয়ারি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আমেরিকান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সরাসরি আক্রমণের আওতায় আনা হবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে রেজাই জানান, ইরান এখনো পরমাণু অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি (এনপিটি) ত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী ফতোয়া বহাল রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের আগ্রাসী পদক্ষেপ তেহরানকে পরমাণু নীতি পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে