দাকোপের বানীশান্তা পশুর নদী তীরে গড়ে ওঠা পল্লীর যৌনকর্মিদের জীবন হয়ে উঠেছে দূর্বিষহ। অর্থনৈতিক দৈন্যতার সাথে নদী ভাঙন আতংকে ঝুঁকিপূর্ন বসবাস। পল্লীর স্বঘোষিত গডফাদার মানিকের নিয়ন্ত্রনে মাদক আর জুয়ার আসর বসে সেখানে।
এক সময়ের চালনা বন্দর নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে স্থানান্তরিত হয়ে চলে যায় মোংলায়। মূলত ওই বন্দর ঘিরে দ্বিগরাজের বিপরীত পাড়ে পশুর নদী তীরে দাকোপের বানীশান্তা এলাকায় গড়ে ওঠে যৌনপল্লী। সামাজিক নানা পরিস্থিতির শিকার হয়ে জীবনের তাগিদে ঘৃনিত এই পেশা বেছে নেয়া ভাগ্য বিড়ম্বিত নারীরা সেখানে যৌনকর্মি হিসাবে কাজ করে। বর্তমানে বানীশান্তার এই পল্লীতে অবস্থান করছে ১৩০ জন নারী কর্মি। সামনে পশুর নদীর অব্যহত ভাঙন আর পিছে চিংড়ী চাষের ঘের। দু’পাশেই অথৈ পানির মাঝখানে টোঙ ঘরে তাদের ঝুঁকিপূর্ন বসবাস। নদীতে পানির চাপ একটু বাড়লেই তাদের অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। বর্তমানে ওই পল্লীতে অন্তত অর্ধশত শিশু আছে। সামাজিক ঘৃনার দৃষ্টি আর শিশু সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা না থাকায় পল্লীর শিশুদের স্বাস্থ্য শিক্ষায় আছে নানা সমস্যা। অতীতে সমাজ ব্যবস্থায় তাদেরকে যেভাবে ঘৃনা আর অবহেলার চোখে দেখা হত সে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। অতীতে কোন যৌনকর্মি মারা গেলে কোন ধর্মীয় বিধান ছাড়াই তাদের মরদেহ পশুর নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হত। এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়ে তাদের জন্য পৃথক কবরস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এই পেশাকে ঘৃনা ও পাপের কাজ বলে এখনও যৌনকর্মিদের দাফন প্রক্রিয়ায় স্থানীয়রা অংশ নিতে চায়না।
কাষ্টমার কমে যাওয়ায় তারা এখন চরম আর্থিক দৈন্যতার মাঝে আছে এমন দাবী করেছেন পল্লীর নারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা আনজুমা বেগম।
পল্লীর কেউ মারা গেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে দাফন সহায়তা না পাওয়ার আক্ষেপের কথা তুলে ধরে পল্লীর সভানেত্রী লাভলী বেগম বলেন, অধিকাংশ নারী কর্মি তিনবেলা ঠিকমত খেতে পারেনা। নদী ভাঙনের কারনে প্রতি নিয়ত তাদের ঘর স্থানান্তর করতে হয় এমন দাবী করে তিনি বলেন, আমরা চাই এখানে বসবাসের নিরাপত্তা।
অনুসন্ধানে উঠে আসে পল্লীতে রমরমা মাদক ও জুয়ার আড্ডার কথা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় চিহ্নিত ব্যবসায়ী মানিক সেখানে সব ধরনের মাদকের সাপ্লাইয়ার। ওই পল্লীর স্বঘোষিত গডফাদার এই মানিকের ইচ্ছের বাইরে সেখানে কোন কাজ হয়না। জানা গেছে সেখানে ৩ টি এনজিও যৌন কর্মিদের মর্জিমত নাম মাত্র স্বাস্থ্য সেবা দেয়। উপজেলা প্রশাসনের সাথে তাদের আইনী বৈধতার বাইরে জবাবদিহি মূলক কোন যোগাযোগ নেই। স্বাস্থ্য সেবার নামে এমন অনিয়মের বিষয়ে কর্মরত পিএইচডি নামের এক এনজিও’র কর্মি অর্পিতা বিশ্বাস পূজার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে পল্লীর সেই স্বঘোষিত গড ফাদার মানিক সেখানে বাঁধা দেয়। আর এনজিও কর্মিরাও নিজেদের জবাবদিহিতার বাইরে রাখতে মানিককে খুশী রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে জানা গেছে। বানীশান্তার যৌন কর্মিরা সেখানে নিরাপদ পরিবেশ আর মানবিক অধিকার গুলো পেতে প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছে। আর সচেতন মহল পল্লীকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান এবং সার্বক্ষনিক নজরদারীর দাবী করেছে।