বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সৌদি আরবপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঢ়ুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলটি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মুঠোফোনসহ প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ভূইয়া বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. রেজিন হোসেন বাদী হয়ে মুলাদী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী রেজিন হোসেন (৪৩) গত ৯ আগস্ট সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। গত শুক্রবার রাতে ১৫ থেকে ১৬ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়ির চারদিক ঘিরে ফেলে। এরপর দলের ৫-৬ জন সদস্য দক্ষিণ পাশের জানালার লোহার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে এবং বাকিরা বাইরে পাহারা দেয়।
ঘরে ঢ়ুকেই ডাকাতেরা রেজিন হোসেন ও তাঁর ছোট ভাই রাজিবের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে এবং চিৎকার করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে রেজিন, তাঁর স্ত্রী সুমি বেগম ও ছোট ভাই রাজিবসহ পরিবারের সদস্যদের গামছা ও ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তারা আলমারির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। ডাকাত দল আলমারি ও শোকেস থেকে সাড়ে ১৩ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৩টি স্মার্টফোনসহ মোট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয়। ডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে মুলাদী থানা ও বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে ডাকাতির ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।