নিকলীতে দেড় যুগ পর হাওরে জমজমাট নৌকাবাইচ, নিখোজ ১

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
নিকলীতে দেড় যুগ পর হাওরে জমজমাট নৌকাবাইচ, নিখোজ ১

নিকলী উপজেলাটি একটি হাওর অধ্যুষিত উপজেলা। সেই উপজেলায় গত শুক্রবার বিকেলে ঘোড়াউত্রা নদীতে লাখো লাখো মানুষের ভিড়ে জমে উঠেছিল অন্যরকম পরিবেশ। নৌকা বাইচ নামে একটি মহামিলনের এক অধ্যায় রুপান্তরিত হয়েছিল। নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতায় চলাকালে পানিতে পড়ে কফিল উদ্দিন (৫০) নামের এক মাঝি পানিতে পড়ে নিঁেখাজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেই মহামিলনের ধারে এসে বাজিতপুর-নিকলী- ৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে নৌকা বাইচ পরিলক্ষিত করেন। জানা যায়, ডাক ঢোলের বাধা মাঝিদের হইহুল্লোড় আর ছন্দ মিলিয়ে বৈঠা চালানোর শব্দে মুখরিত হয়েছিল ঘোড়াউত্রা নদী। সকাল থেকেই দুই পাড়ে জড়ো হন লক্ষাধিক দর্শনার্থী। নৌকা ভাড়া করে নদীর মাঝখান থেকেও অনেকে উপভোগ করেন এই প্রতিযোগীতা। দুপুর আড়াইটার দিকে বেড়িবাঁধ এলাকায় নৌকা বাইচ শুরু হয়। নিকলীর সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এই নৌকা বাইচ আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেড়িবাঁধ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। নৌকা বাইচ শুরু হয় ঘোড়া উত্রা নদীর পরিবেশ ডাক-ঢোলের তালে তালে মাঝিদের হাড় ডাক ছন্দে জমে উঠে এই প্রতিযোগীতা। কখনো একটি নৌকা এগিয়ে যায় কখনো বা আরেকটি নৌকা এগিয়ে যায়। ্এ যেন হর্ষধ্বনি ও করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠে নদীর চারপাশে। তীব প্রতিদ্বন্দীতা বিজয়ী দলের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ফ্রিজ। দ্বিতীয় স্থান অর্জন কারী দল পায় টেলিভিশন। তৃতীয় স্থান অর্জনকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি মোবাইল ফোন। হাওর অধ্যুষিত উপজেলা মানুষের জীবনযাত্রার মান, নৌকার সম্পর্ক বহুবছরের পুরনো সংস্কৃতি। তবে আধুনিকতার প্রভাবে আগের মত এই আয়োজন না হওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার এই লোক সংস্কৃতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকে বলেন, এক সময় গ্রামীন বাংলার নৌকা বাইচসহ বিভিন্ন উৎসবে আয়োজন ও লোক সংস্কৃতির ছোয়া থাকত। জারি-সারি ও ভাটিয়ালী গানসহ লাঠি খেলা, কাবাডি, মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল। দীর্ঘদিন পর এই নৌকা বাইচ আবারও গ্রাম-বাংলায় পরিচিত হয়ে বসেছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, দেড় যুগ পর এই লোকজ সংস্কৃতি শুরু হওয়ায় তিনি খুবই আনন্দিত। এই ধারা প্রতি বছর ধরে রাখার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলে পুরুষ্কার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। নৌকা বাইচটি সভাপতিত্ব করেন, নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মানিক মিয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শামীম আরা, নিকলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান-শিল্পপতি মোকারম সরদার, কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মাসুদ মিয়াসহ ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল, মুক্তিযোদ্ধা দলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে