দুর্গাপূজা সামনে রেখে সুনামগঞ্জে সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে মতবিনিময়

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
দুর্গাপূজা সামনে রেখে সুনামগঞ্জে সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে মতবিনিময়

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুনামগঞ্জে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) ও বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে পিএফজির উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পিস অ্যাম্বাসেডর শাহীনা চৌধুরী রুবির সভাপতিত্বে এবং পিস অ্যাম্বাসেডর সিরাজুল ইসলাম পলাশের সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল বণিক, ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের মাওলানা নূর হোসাইন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বিটু বড়ুযা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান । সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা।

স্বাগত বক্তব্যে কুদরত পাশা বলেন, পিএফজি একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী, সহনশীল, মুক্ত ও মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহাবস্থান নিশ্চিত করা, ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ এবং সম্মিলিত উদ্যোগে সামাজিক সমস্যা সমাধানে পিএফজি কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা নিরসন এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করাই এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

সভায় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। সুনামগঞ্জ যেমন সংস্কৃতির রাজধানী, তেমনি এটি আলেম-ওলামা ও বাউলদেরও তীর্থস্থান। বিভিন্ন সময়ে কিছু ব্যক্তি সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। তবে বক্তারা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের নানা কর্মকাণ্ড শহরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সম্প্রতি সন্তানের সামনে এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সকাল-বিকেলে বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে কিশোরদের আড্ডা এবং শহরের রিভারভিউ ও বকপয়েন্ট এলাকায় তাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বক্তারা দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এসব বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সভায় আরও বক্তব্য দেন পিস অ্যাম্বাসেডর ও সুনামগঞ্জ আয়কর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হাসান শাহীন, জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফজলুল করিম, জেলা সুজনের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হাসান আতাহের, ওয়েজখালী জামে মসজিদের ইমাম আশরাফ উদ্দিন, সাংবাদিক রেজাউল করিম, মাসুক মিয়া, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের স্বপন সরকার, মাওলানা ফয়জুন নুর ফয়েজ, নারী উদ্যোক্তা তৃষ্ণা আক্তার রোসনা, ইউপি সদস্য মাজেদা আক্তার, প্রতিমা রানী দাস, সুনামগঞ্জ জেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি রাসেল আহমদ, বৈশাখী টিভির জেলা প্রতিনিধি কর্ণ বাবু দাস, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক তুর্য দাস, ইয়ুথ অ্যান্ডিং হাঙ্গারের জেলা সমন্বয়কারী আলী ইমরান, ইয়ুথের রুমিন দাস, অনন্যা ও রুবাইয়া শারমিন নাভাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে