ঠিকাদারের গাফিলতি ও অযোগিতার কারনে দীর্ঘদিন হতে বন্ধ রয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার পানি শোধনাগারটি। পৌরবাসির দাবির মুখে গত সোমবার উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পরীক্ষামুলক ভাবে শোধনাগারটি চালু করে সুবিধাভোগীদের বাসাতে বসানো কলে পানি সরবরাহ করা হলেও তিনঘন্টা পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সুপিয় পানির আশা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসীর মাঝে আবারো অশ্চিয়তা দেখা দেয়।
জানা গেছে, গত দু’বছর আগে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রণমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ঢাকাস্থ এসএএম কর্নসোটিয়াম লিমিটেড নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পানি শোধনাগারটি নির্মাণ করেন। চুক্তি মোতাবেক নির্মাণের পর ১২ মাস পরীক্ষামুলক ভাবে চালু করার পর এটি পৌরসভাকে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পানি শোধনাগারটি ৩ মাস ১৯দিন চালু রাখার পর তা বন্ধ রাখে। এতে করে পৌরসাসি সুপেয় পানি হতে বঞ্চিত রয়েছে। এদিকে দীর্ঘ দিন হতে পৌরসভার নালা বা ড্রেন ও রাস্তার কাজ সম্ভুক গতিতে চলার কারনে সাধারন মানুষ চরম ভোগাণ্তির শিকার হচ্ছেন ।
পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু বলেন, পানি শোধনাগারটি চালু না করায় পৌরবাসি সুপেয় পানিসহ নাগরিক অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। পৌরবাসির পানি সরবরাহ নিশ্চিত করণের লক্ষে দ্রুত গতিতে শোধনাগারটি চালুসহ রাস্তার ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারি প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, ঠিকাদারের অহযোগিতাসহ নানাবিধ কারনে দীর্ঘদিন থেকে শোধনাগারটি বন্ধ ছিল আমরা পরীক্ষামূলকভাবে তা ৩ ঘণ্টা চালু রাখার পর তা বন্ধ করে দেই। ইতোমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে শোধনাগারটি হস্তান্তরের জন্য তাগাদা দেয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহ থেকে পরীক্ষামুলক ভাবে নিয়মিত চালু থাকবে।
পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মো. হামিদুর রহমান বলেন, পানি শোধনাগারটি এখনো পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়নি। সে কারনে এ ব্যাপারে পৌরসভার কোন কিছু করার সুযোগ নেই। উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাণের কারনে পানি শোধনাগারটি চালু করতে সমস্যা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।