ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের আলীপুর ব্রিজের ঢাকামুখী সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি এখন যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫-২০ দিনে এই স্থানে প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেল উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। গর্তটি সাময়িক ভাবে ঢাকতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ লোহার স্ল্যাব বসিয়েছে। তবে স্ল্যাবের চারপাশ উঁচু হয়ে থাকায় সেটি দূর থেকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন হঠাৎ ওই স্থানে পৌঁছে ঝাঁকুনি খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, আলীপুর ব্রিজের মাঝামাঝি ঢাকামুখী লেনে পিচ উঠে গিয়ে বড় আকারের গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তের ওপর লোহার স্ল্যাব বসানো হলেও এর চারপাশে উঁচু করে পিচ দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিক গতিতে চলাচলকারী চালকদের জন্য দূর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি বুঝে ওঠা কঠিন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ওই অংশ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ঝাঁকুনি খাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম মহাসড়ক। দিন-রাত বিপুলসংখ্যক যানবাহন এ পথে চলাচল করে। এর মধ্যে আলীপুর ব্রিজের মতো ব্যস্ত সড়কে এমন ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাতে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা না থাকা এবং বৃষ্টির সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় অটোরিকশা চালক মো. হুদা বলেন, ‘গত ১৫-২০ দিন ধরে এই জায়গায় প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেল এসে উল্টে যাচ্ছে। দূর থেকে গর্তটি বোঝা যায় না। অনেক চালক ও আরোহীকে পড়ে গিয়ে আহত হতে দেখেছি। রাতের অন্ধকার ও বৃষ্টির সময় জায়গাটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। নিয়মিত মহাসড়ক ব্যবহারকারী কয়েকজন পরিবহন চালক বলেন, সড়কের এমন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে আগাম সতর্কতা মূলক কোনো সাইনবোর্ড নেই। ফলে চালকরা হঠাৎ উঁচু স্ল্যাবে উল্টে পড়ছেন। এতে বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ঝুঁকি বেশি। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির পর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে এখনই ব্রিজের ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে হবে। সংস্কার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে দৃশ্যমান সতর্কতা মূলক সাইনবোর্ড ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ভিটিকান্দি সড়ক উপ-বিভাগের (সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম রেজা বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। লোহার স্ল্যাবটি সরিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। স্থানটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।#