গাজীপুর মহানগরের পূবাইল ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা, চোরাই মালামাল কেনাবেচার অভিযোগ এবং লাইসেন্সবিহীন ও নম্বরবিহীন অটোরিকশার চলাচলকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক সেবন ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অর্থের প্রয়োজনে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বসতবাড়ি, দোকানপাট, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা থেকে রড, বৈদ্যুতিক তার, মোটরসহ নানা সামগ্রী চুরি যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল কিছু ভাঙারি দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত ছাড়া সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে পূবাইলের বিভিন্ন সড়কে লাইসেন্সবিহীন ও নম্বরবিহীন অটোরিকশার চলাচল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এসব যানবাহনের পরিচয় ও চলাচল যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে অপরাধীরা দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে কোনো অটোরিকশার চালক বা মালিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় চুরি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় অনেকেই উদ্বিগ্ন থাকেন। তারা মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ভাঙারি ব্যবসা নজরদারি এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, চুরি-ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। চোরাই মালামালের সম্ভাব্য ক্রেতা, বিক্রেতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের উৎস ও বিক্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “অপরাধ দমনে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মাদকের আড্ডা, অবৈধ ভাঙারি দোকান, লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা এবং যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবসময় কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পূবাইল এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।