কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে

বর্তমান দেশে অন্যতম আতঙ্ক ও উদ্বেগের নাম কিশোর গ্যাং। নৈতিক অবক্ষয়ের অতলান্তিকে ধাবিত হচ্ছে কিশোররা। বিগত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার অনেকটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। প্রচলিত এবং পরিচিত আন্ডার ওয়ার্ল্ড এবং এর সঙ্গে জড়িত গডফাদার ও সন্ত্রাসীদের নাম, পরিচয় জানা গেলেও কিশোর গ্যাং-এর সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয় অজানা থেকে যায়। বিভিন্ন বিচিত্র নামে এসব কিশোর গ্যাং পাড়া-মহল্লায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। পশ্চিমাদেশীয় ‘গ্যাং’ শব্দটি এদেশে তেমন পরিচিত ছিল না। বিগত বছর দশেক থেকে বাংলাদেশে বিপদগামী কিশোরদের কাছে শব্দটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর বীভৎস চিত্র আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ অপরাধের ছোঁয়াচে আক্রান্ত হচ্ছে যুবসমপ্রদায়ও। ফলে এই ক্ষত চিহ্ন হবে দীর্ঘায়িত, কুফল ভুগতে হবে পুরো জাতিকে। সাধারণত প্রতিপক্ষ বা প্রভাবশালীদের হামলা থেকে বাঁচতে অথবা নিজেদের সুসংহত অবস্থা জানান দিতে ৫/৬ জনের গ্রুপ সৃষ্টি করে। এরপর তাদের দ্বারা কিছু অপরাধ সংঘটিত থাকে এবং গ্রুপের সদস্য সংখ্যাও বাড়তে থাকে। প্রতিটি গ্যাংয়ের আকর্ষণীয় নাম এবং লোগো ধারণ করে। নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য বাড়াতে শুরু করে হাইজ্যাকিং। তাদের মাথার উপর ছায়ার মতো অভয় নিয়ে দাঁড়ায় তথাকথিত ‘বড় ভাই’রা। এই সব ‘বড় ভাই’রা বেশির ভাগই রাজনৈতিক মদদপুষ্ট। ‘বড় ভাইয়েরা’ তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এইসব কিশোর গ্যাংকে দারুণভাবে ব্যবহার করে। বিনিময়ে এই কিশোররা আর্থিক সমর্থন এবং অস্ত্রের সহায়তা পেয়ে থাকে। জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসা ও ব্যবহারের সঙ্গে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী মহল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য কিশোর গ্যাং ব্যবহার করছে। এলাকার বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে তারা দুর্দমনীয় হয়ে উঠছে। যেকোনো অপরাধে তারা অবলীলায় জড়াচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সাথে নিম্নবিত্তের সন্তানই নয়, উচ্চবিত্তের সন্তানরাও জড়িত। এর প্রধানতম কারণ, তাদের কিশোর মনের ‘হিরোইজম’ প্রকাশ করা। এই হিরোইজম দেখাতে গিয়েই তারা ভয়ংকর হয়ে উঠছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করাসহ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। সমাজের জন্য তারা বিষফোঁড়ায় পরিণত হচ্ছে। এজন্য সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক শাসন-বারণের অভাব, ধর্মীয় রীতি-নীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিভাবক শ্রেণীও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কি করছে, শাসন-বারণের এই মৌলিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েছে।  কিশোর অপরাধ ঠেকাতে সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিতে হবে। অপরাধ প্রবণ কিশোররা যাতে রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।