রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মার মধ্যে ১৫ চরে বন্যায় ৬টি প্রাথমিক ও ২টি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনিষ্টকালের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এই ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হলেও অফিস নিয়মিত চলবে এবং শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে সময়মতো আসা যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মার মধ্যে ১৫টি চরের মানুষ এক সপ্তাহ যাবৎ পানি বন্ধী রয়েছে। এ কারনে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ফলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রায় ৬০০ শতাধিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়া আসায় সমস্যায় পড়েছে। তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার কোন ব্যবস্থা না থাকায় জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয় দুটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, পশ্চিম চরকালিদাসখালী, ফতেপুর পলাশি, লক্ষীনগর, চরকালিদাসাখালীসহ ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার কোন ব্যবস্থা না থাকায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ দিকে পলাশি, চকরাজাপুর এবং পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিনটিতে বন্যা কবলিত না হওয়ায় পাঠদান কাক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনুর রহমান বলেন, পদ্মার চরে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬টির ছুটির ঘোষণা করা হয়েছে। তিনটির বিদ্যালয়ে পাঠদান কাক্রম অব্যাহত রয়েছে। চকরাজাপুর ও পলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় দুটি বন্ধ রাখা হয়েছে মর্মে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সোহেল রানা জানায়, এক সপ্তাহ যাবত পানির মধ্যে বাস করছি। এরমধ্যে কি করে স্কুলে যাব। তাই স্যারেরা স্কুল ছুটি দিয়েছে। ঘর থেকে বাইরে যেতে পারছিনা। ঘরের মধ্যে মাচা করে বসবাস করছি।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলা রানা বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত যাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা আসতে পারছে না।
এ দিকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পদ্মার পানি কিছুটা কমলেও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন চরের মানুষ। বন্যার কবলে পড়েছেন চরের আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, দিয়াড়কাদিপুর, উত্তর কালিদাসখালী, দক্ষিন কালিদাসখালী, পশ্চিম চকরাজাপুর, পূর্ব চকরাজাপুর, দাদপুর, পলাশি ফতেপুর, নিচ পলাশি ফতেপুর, জোতাশী, লক্ষীনগর, কালিদাসখালী, আম বাগান, টিকটিকিপাড়াসহ ১৫টি চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০০টি ও উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা পক্ষে ১০০টি পরিবারকে শুকনো খাবার, চিড়া, মুড়ি, আখের গুড়, খাবার স্যালাইন, প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ঔষধ ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষা অফিসার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দূর্দশার মধ্যে চরের মানুষ বসবাস করছে। তাদের জন্য কিছু ত্রাণ দেয়া হয়েছে। তবে সমাজের সুহৃদ ব্যক্তিদের কাছে চরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানান তিনি।