মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ১০ম গ্রেডের চারটি পদের অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল দ্রুত প্রকাশ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় শিক্ষা ভবনের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। পরে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ও মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে তারা স্মারকলিপি দেন।
আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ৪ হাজার ৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি। ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪২২টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা কর্মরত রয়েছেন। তবে একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১০ম গ্রেডের চারটি পদের ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এসব পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীরা জানান , এসব পদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল। একই বছরের ৪ মে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থী রসরাজ রায় বলেন, 'একই সার্কুলারে অন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা চাকরিও করছেন। কিন্তু ভাইভা দেওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের ফলাফল দেওয়া হচ্ছে না। এমন অবস্থায় আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি।' মাউশির নিয়োগ -২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য আকতারা আঁখি বলেন, প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) পদে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তিনি।
আকতারা আঁখি আরও বলেন, 'আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভাতেও অংশ নিয়েছি। ৬১০টি পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন যদি ফল আটকে রাখা হয়, তাহলে আমাদের কী হবে? আমরা তো অন্যায্য কিছু দাবি করছি না।'
মাউশির নিয়োগ -২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস বলেন, আমাদের এই ফলাফল প্রকাশের জন্য ডিবিসি তে মিটিং হয়, তখন অদৃশ্য শক্তি এই রেজাল্ট টাকে আটকে রাখে এরপর রেহেনা পারভিন আবার নতুন করে রেজাল্ট প্রকাশের অনুমতি দেয়। তখনো মাউশি এই রেজাল্টটাকে আটকে রাখে। এখন শিক্ষা সচিব নতুন করে আবার রেজাল্টটি নিষ্পত্তি করার কথা বলছে। কিন্তু এবার যেন এই রেজাল্ট টা আর মাউসির ডিজি খান মহিউদ্দিন সোহেল আটকিয়ে রাখতে না পারে। এইজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেহেতু শিক্ষা সচিব রেজাল্ট প্রকাশেরঅনুমতি দিয়ে দিয়েছেন, মাউসির ডিজি যেন আর এই রেজাল্টটা আটকিয়ে রাখতে না পারে তার ব্যক্তি স্বার্থে। তিনি এই ৬১০ টি পদের রেজাল্ট আটকিয়ে রাখছে ২৬ মাস যাবৎ।
ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, আমাদের আসলে কোন জায়গায় স্থান নেই, আপনারা ভালো করেই জানেন যারা বেকার তাদের কোন জায়গায় দাম নেই। আমরা মাওসিন নিয়োগ ২০২০ এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী। এখানে একই নিয়োগের দ্বৈত নীতি! অর্থাৎ মাউশির নিয়োগ ২০২০ এ প্রায় ৪০৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু একই নিয়োগের ২৮ ক্যাটাগরির রেজাল্ট প্রকাশ হলেও ৪টি ক্যাটাগরির রেজাল্ট মাউশি ঝুলিয়ে রাখে।
এখানে আসলে কোন ধরনে ঝামেলা নাই, ডিভাইস কেলেঙ্কারি মতো কোন অভিযোগ নাই যার কারনে মাউশি এই রেজাল্ট আটকিয়ে দিতে পারে। আমরা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আনম এহসানুল হক মিলন স্যারের শরণাপন্ন হয়ে ছিলাম উনি আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন বিষয়টি উনি দেখবেন এরপর ওনার কাছে গেলে উনি বলেন আসলে রেজাল্ট আমরা দেখিনি মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। আমাদেরকে মাউশি ও মন্ত্রণালয় একাধিকবার যেতে হচ্ছে, আমাদেরকে মনে হচ্ছে ফুটবলের মত একবার মন্ত্রণালয় আরেকবার মাউশি, আরেকবার মাউশি আরেকবার মন্ত্রণালয় এভাবেই শুধু ঘোরানো হচ্ছে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষা নীতির বৈপরীত্য। একজন মাউশির ডিজির স্বেচ্ছাচারিতায় রেজাল্ট হবেনা এটা দেশে মেনে নেয়া যায়না একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অধিকাংশ পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও চাকুরী লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার পর মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রার্থী ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পার করেছেন। অনেকে বয়সসীমা পার হওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন। এজন্য দ্রুত চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করারর দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে চাকরিপ্রার্থীরা চার দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো-অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা, ফল প্রকাশের পর নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রার্থীদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া। এ ছাড়া নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মাজেদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।