সিসিটিভিতে ধরা পড়ল নোহা

কিশোরগঞ্জে গিয়ে উদ্ধার চুরি হওয়া ষাঁড়, গ্রেপ্তার ২

এফএনএস (এইচ এম জোবায়ের হোসাইন; ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
কিশোরগঞ্জে গিয়ে উদ্ধার চুরি হওয়া ষাঁড়, গ্রেপ্তার ২

দুপুরের আলো-ঝলমলে সময়। হঠাৎ বাড়ির পাশ থেকে উধাও হয়ে গেল লাল রঙের একটি ষাঁড় বাছুর। আশপাশে খোঁজ করেও মিলছিল না কোনো সন্ধান। শেষ পর্যন্ত ভরসা হলো সিসিটিভি ফুটেজ। ক্যামেরায় ধরা পড়ে একটি সাদা রঙের নোহা গাড়ি। আর সেই গাড়ির নম্বরই খুলে দিল চুরি রহস্যের জট। সিসিটিভির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ত্রিশাল থানা পুলিশ অভিযান চালায় কিশোরগঞ্জে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া ষাঁড় বাছুর। গ্রেপ্তার করা হয় কথিত চোরচক্রের দুই সদস্যকে। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত নোহা গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ৫ মিনিটে ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বীররামপুর চরপাড়া এলাকার শিমুলতলী থেকে লাল রঙের একটি ষাঁড় বাছুর চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরির কাজে ব্যবহার করা হয় সাদা রঙের একটি নোহা গাড়ি। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৬৩৭৫। গরুটি চুরি যাওয়ার পর মালিক নাছির উদ্দিন ত্রিশাল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজে চুরির সময় ব্যবহৃত নোহা গাড়িটির নম্বর স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। গাড়ির নম্বর হাতে পাওয়ার পর থেমে থাকেনি পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাড়িটির অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ত্রিশাল থানার এসআই আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে চুরি যাওয়া ষাঁড় বাছুরটি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. হৃদয় (২৫) ও মো. আসাদ মিয়া (৪০) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হৃদয় কিশোরগঞ্জের গাইটাল সওদাগর মসজিদ এলাকার (জিল্লুর বাড়ি সংলগ্ন) বাসিন্দা। তার বাবা আঃ আজিজ ও মা লায়লা। অপর গ্রেপ্তার আসাদ মিয়া বত্রিশ গ্যাস অফিস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মৃত লাল মিয়া ও মা মৃত বকুলা খাতুন। পুলিশ চুরির কাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৬৩৭৫ নম্বরের সাদা নোহা গাড়িটিও উদ্ধার করে জব্দ করেছে। গাড়ির নম্বরেই মিলল গরুর হদিস

স্থানীয়দের ভাষ্য, চোরেরা দ্রুত গরুটি নিয়ে এলাকা ছাড়লেও সিসিটিভির চোখ এড়াতে পারেনি। গাড়ির নম্বর শনাক্ত হওয়ার পর প্রযুক্তির সহায়তায় দূর কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছে যায় পুলিশের তদন্ত। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া ষাঁড়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে