বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের ফলপট্টি এলাকায় একটি ট্রাভেলস ও ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে শেরপুর থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলায় পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পৌরসভার ফলপট্টি এলাকার ‘মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স ও সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’-এর কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম সম্রাট সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মচারীদের হুমকি দেন। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও রাফাতের বাবা আব্দুল মান্নানের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল এবং শেরপুরে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে ঢোকে। তারা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তাঁর সন্তানদের খোঁজ করে এবং কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের শাটার নামিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এ সময় টেবিলে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল রাফাত বলেন, তাঁর বাবা ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। যুবদলের নাম ব্যবহার করে সরকারি অধিগ্রহণ করা জায়গা দখল করে ভাড়া-বাণিজ্য করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে শুক্রবার দিবাগত রাতে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।