সীতাকুণ্ডে সার্জেন্টের নাম ভাঙিয়ে মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫২ এএম
সীতাকুণ্ডে সার্জেন্টের নাম ভাঙিয়ে মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের মামলা ও প্রশাসনিক হয়রানি এড়ানোর ভয় দেখিয়ে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের কাছ থেকে গাড়িপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অসাধু লাইন কমিটি ও প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে ট্রাফিক সার্জেন্টের নাম ব্যবহার করে পৌর সদরের আশপাশের অন্তত ১৯টি লাইন থেকে প্রায় ২ হাজার সিএনজি চালকের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার এক বিশাল অঙ্কের অবৈধ লেনদেন হলেও এর পুরোটাই থাকছে নেপথ্যে। চালক ও স্থানীয়দের দাবি, চাঁদা না দিলে নির্দিষ্ট লাইনে গাড়ি দাঁড় করাতে দেওয়া হয় না এবং মহাসড়কে উঠলেই পুলিশি মামলা বা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এ চাঁদাবাজির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সার্জেন্ট মনতাজির।

অনুসন্ধান ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে সীতাকুণ্ড পৌরসভার সদরে চলাচলের জন্য সিএনজি অটোরিকশাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পৌর সদরের আশপাশের মুরাদপুর, সৈয়দপুর ও বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১৯টি সিএনজি লাইন সক্রিয় রয়েছে। এসব লাইনের প্রতিটি চালকের কাছ থেকে সার্জেন্টের ভয় দেখিয়ে মাসে ৫০০ টাকা তোলা হলেও চালকদের কোনো প্রকার সরকারি বা দাপ্তরিক রসিদ দেওয়া হয় না। সৈয়দপুর ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড সিএনজি লাইনের বর্তমান সভাপতি রনি ও সাবেক সভাপতি রহমান সরাসরি দাবি করেন, ট্রাফিক সার্জেন্টের নির্দের্শেই গাড়িপ্রতি এই টাকা নেওয়া হয়। সিএনজি চালক নবীসহ একাধিক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকা না দিলে মামলা খাওয়ার ভয় দেখানো হয়। আমরা গরীব মানুষ, বাধ্য হয়েই রসিদ ছাড়া টাকা দিতে হচ্ছে।

এদিকে, মহাসড়কে এমন বেপরোয়া অর্থ আদায়ের মধ্যেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চরম অবহেলা চোখে পড়ার মতো। সীতাকুণ্ড বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌর সদরের প্রধান সড়কগুলোতে সারাদিন তীব্র যানজট লেগে থাকে, কিন্তু তা নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। চালকরা আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাফিক পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ১৯টি লাইনের প্রায় ২ হাজার সিএনজি থেকে মাসে ৫ শত টাকা করে তোলা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গভীর তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক সার্জেন্ট মনতাজির সকল দাবি খণ্ডন করে বলেন, আমার নামে সিএনজি থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। ট্রাফিক পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি অসাধু সুবিধা নিয়ে থাকে, তবে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে কেউ টাকা আদায় করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, চালকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, প্রতি মাসে আদায় করা আনুমানিক ১০ লাখ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে, তা কেবল মৌখিক অস্বীকারে ঢাকা সম্ভব নয়। লাইনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের ভূমিকা, লেনদেনের মাধ্যম (প্রয়োজনে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব) এবং জিম্মি সিএনজি চালকদের সুরক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরী। যদি ট্রাফিক সার্জেন্টের সম্পৃক্ততা না থাকে, তবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে হাজার হাজার চালককে জিম্মি করা এই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে