ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এসব হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়। হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে জানান যে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় আঘাত হানা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রমাণ।
জোট এই গোষ্ঠীকে নিবৃত্ত করতে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের নিজস্ব গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে যে তাদের ছোড়া ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আবহা বিমানবন্দর এবং জিজানের আরামকো স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হেনেছে।
এর আগেও শিল্পনগরী জিজানের এই তেল স্থাপনাটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার ফলে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত বন্ধ ছিল। তবে গত জুলাইয়ে হুথিরা লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দিলে নতুন করে এই উত্তেজনা শুরু হয়। সর্বশেষ এই বহুমুখী হামলার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সৌদি সামরিক বাহিনী।