কিডনি দিতে প্রস্তুত ভাই, টাকার অভাবে থমকে আছে বিউটির চিকিৎসা

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
কিডনি দিতে প্রস্তুত ভাই, টাকার অভাবে থমকে আছে বিউটির চিকিৎসা

আলমারির ওপর ধুলো জমেছে। ঘরের এক কোণে মাকড়সা বাসা বেঁধেছে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে সেদিকেই তাকিয়ে থাকেন বিউটি।ইচ্ছে করে উঠে দাঁড়িয়ে আলমারির ধুলো মুছে দেন। ঘরটা একটু গুছিয়ে দেন। আগের মতো সংসারের সবকিছু সামলে নেন। কিন্তু পারেন না। শরীর আর সাড়া দেয় না।

কিছুদিন হাসপাতালের বিছানায় থাকার পর বাড়ি ফিরেছেন তিনি। এখন নিজের ঘরের বিছানাটাই যেন তার পৃথিবী। দিনের পর দিন শুয়ে কাটছে সময়। অন্ধকার ঘরে শুয়ে পাশের খোলা জানালা দিয়ে বাইরের আলো দেখেন তিনি। আর ভাবেন-জীবনের কঠিন হিসাবটা কোথায় ভুল হলো? রাজশাহী কলেজ থেকে রসায়নে মাস্টার্স করা বিউটি একসময় হয়তো অনেক জটিল রাসায়নিক সমীকরণের হিসাব মিলিয়েছেন। কিন্তু আজ জীবনের রসায়নের হিসাব মেলাতে পারছেন না।

একসময় যিনি সামলাতেন পুরো সংসার

সুস্থ থাকাকালে এক হাতে সামলেছেন পুরো সংসার। স্বামী বদরুল হাসান লিটন একজন সাংবাদিক। সংবাদের খোঁজে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে বেড়ান তিনি। সাংবাদিকদের জীবনে বাইরের খবরের শেষ নেই। কিন্তু সেই ব্যস্ততায় অনেক সময় নিজের ঘরের খবরটুকুও অজানা থেকে যায়।

সেই ঘরটাকেই আগলে রাখতেন বিউটি।

বাজারে কী আছে, কী নেই-চাল শেষ হলো কি না, সন্তানদের পড়াশোনা, রান্না, সংসারের হিসাব-সবকিছু হাসিমুখে সামলাতেন তিনি। অনেক সময় ঘরে বাজার নেই, চাল শেষ-তবুও স্বামীকে চিন্তিত হতে দিতেন না। সংসারের চাকা থামতে দেননি কখনো। কিন্তু আজ? আজ তিনি নিজেকেই সামলাতে পারছেন না।

লাল-নীল আলোর ঝলকানি, কিন্তু নিজের ঘরে নেই আলো

স্বামী সাংবাদিক। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কত দুর্ঘটনা, কত মানুষের কান্না, কত সুখ-দুঃখের গল্প দেখেছেন তিনি। টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা সংবাদের পাতায় লাল-নীল আলোর ঝলকানি দেখা যায়। কিন্তু বিউটির মনে হয়, দীর্ঘ ৩৩ বছরের জীবনে সেই আলো তাদের নিজেদের ঘরে খুব বেশি আলো এনে দিতে পারেনি। বরং সৎভাবে জীবন কাটাতে গিয়ে সংগ্রাম যেন আরও বেড়েছে। আজ সেই সাংবাদিক স্বামী বদরুল হাসান লিটন নিজের স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছেন।

যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের দুঃখের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, আজ তার নিজের ঘরেই নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার।

দুটি কিডনি বিকল, সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস দরকার

বিউটির দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ডায়ালাইসিস প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবার চিকিৎসার পেছনে যে খরচ, তা বহন করা পরিবারের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। প্রতি সপ্তাহে ডায়ালাইসিস ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসায় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয় বলে পরিবার জানিয়েছে। টাকার অভাবে নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করানো সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কখনো কখনো সপ্তাহে মাত্র একদিন ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। আর প্রতিটি দিন যেন পরিবারের জন্য নতুন এক আতঙ্ক।

স্ত্রী কষ্ট লুকান, স্বামীর মুখ দেখে

বিউটি জানেন সংসারের বাস্তবতা। জানেন, স্বামীর পক্ষে প্রতিদিন এত টাকা জোগাড় করা কতটা কঠিন।

তাই নিজের অসহ্য কষ্টের কথাও সবসময় বলেন না। মলিন মুখে ঘুরে বেড়ানো স্বামী লিটনের দিকে তাকিয়ে শুধু মায়া হয় তার। আর ঘরের দুই মেয়ে মায়ের চারপাশে ঘুরঘুর করে। তাদের চোখেও জমে থাকে পানি। ছোট মেয়েটির একটাই প্রশ্ন-মা কবে সুস্থ হবে? সে চায়, মা আবার আগের মতো তাকে বকা দিক। মা তার চুলে তেল দিয়ে ঝুঁটি করে দিক। নখে লাগিয়ে দিক নেলপলিশ। মায়ের বকুনি, মায়ের হাতের স্পর্শ- এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই এখন তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখ।


বোনকে বাঁচাতে কিডনি দিতে চান ভাই

বিউটির জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন তার আপন ভাই। আদরের বোনকে নিজের একটি কিডনি দিতে চান তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য মিলও পাওয়া গেছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

অর্থাৎ একজন ভাই প্রস্তুত তার বোনকে নিজের শরীরের একটি অংশ দিয়ে নতুন জীবন দিতে। কিন্তু সেই নতুন জীবনের পথে এখন সবচেয়ে বড় বাধা-টাকা। কিডনি প্রতিস্থাপনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পরিবার। গয়না বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা সংগ্রহের আশা করছেন তারা। কিন্তু এখনো প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকা। এই টাকার অভাবেই থমকে আছে একজন মায়ের জীবন, একটি পরিবারের স্বপ্ন আর দুই সন্তানের মায়ের কাছে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা।

আমরা কি পারি না একজন মানুষকে বাঁচাতে?

আমরা প্রতিদিন কত টাকা কত অপ্রয়োজনে খরচ করি। কখনো বিনোদনে, কখনো বিলাসিতায়, কখনো সামান্য প্রয়োজনেও হাজার হাজার টাকা চলে যায়। কিন্তু সেই টাকা থেকে যদি কেউ একশ টাকা, পাঁচশ টাকা কিংবা এক হাজার টাকা করে এগিয়ে আসেন-

তাহলে কি একজন মানুষকে বাঁচানো সম্ভব নয়? একজনের পক্ষে হয়তো ১০ লাখ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু হাজার মানুষের ছোট ছোট সহযোগিতা মিললে সেই ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা অসম্ভবও নয়।

রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বদরুল হাসান লিটনের অসংখ্য সহকর্মী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজন রয়েছেন। আছেন অসংখ্য হৃদয়বান মানুষ। আজ বিউটির পরিবারের আবেদন তাদের সবার কাছে-একটু হাত বাড়ান। একটি পরিবারকে ভেঙে যেতে দেবেন না। দুই শিশুর মাথার ওপর থেকে মায়ের ছায়া হারিয়ে যেতে দেবেন না। একজন ভাই যখন নিজের কিডনি দিয়ে বোনকে নতুন জীবন দিতে প্রস্তুত, তখন আমরা কি একটু সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারি না? সবাই মিলে হাত বাড়ালে হয়তো সেই হাত ধরেই ছোঁয়া যাবে নতুন জীবনের আকাশ। ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ হলে বিউটি আবার উঠে দাঁড়াতে পারেন। আবার আলমারির ধুলো মুছতে পারেন। আবার সন্তানদের চুলে তেল দিতে পারেন। আবার ঘর ভরে উঠতে পারে তার হাসিতে।

আসুন, বিউটি আপার বাঁচার লড়াইয়ে পাশে দাঁড়াই

বিকাশ ও নগদ: ০১৭১৮১০৫৪৬৪

ব্যাংক হিসাব

হিসাবধারীর নাম: মো. বদরুল হাসান

হিসাব নম্বর: ১১০১০০৭৪০৭৯৮০

ব্যাংক: যমুনা ব্যাংক

শাখা: রাজশাহী শাখা

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে