আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ভাঙন রোধে ব্যবহারের জন্য রাখা বস্তা চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটককৃত চোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন সরেজমিন পরিদর্শনকালে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৫০০ বালুর বস্তা ডাম্পিংয়ের নির্দেশ দেন। কাজে ব্যবহারের জন্য সরকারি বালুর বস্তা চুরির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে আব্দুর রশিদ গাজীর বাড়িতে রাখা বালুর বস্তা ট্রলারে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা কয়েকজনকে দেখতে পান। এ সময় খায়রুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ বস্তা চুরি হয়েগেছে। চুরি যাওয়া বস্তার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা।
লেবার সরদার ও গাবুরা গ্রামের বিল্লাল গাজীর ছেলে মেহেদী হাসান জানান, একটি ট্রলারে করে বস্তাগুলো খেয়াঘাটের পাশে ফ্রেন্ডশিপের কেওড়া বাগানে রাখা হয়। পরে অন্য একটি ট্রলারে তোলার সময় রাত আড়াইটার দিকে খায়রুলকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই ট্রলারটি জেলে পাড়ার নিমাই এর।
আটক খায়রুল দাবি করেন, তিনি ও সোহরাব বস্তাগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি ভুল করেছেন বলে স্বীকার করে নিজেকে এ ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় সোহরাব পালিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা। আনুলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, “সরকারি বালুর বস্তা চুরির বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। কোনো অভিযোগও পাইনি। তবে মোবাইলে ভিডিও দেখেছি এবং লোকমুখে শুনেছি।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিও রশিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আশাশুনি থানার ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, “চুরির বিষয়টি আমার জানা নেই।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন,“বস্তা চুরির বিষয়টি আমার জানা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানান। আমিও তাদের সঙ্গে কথা বলছি।”
এদিকে, বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাঁধের ভাঙন দ্রুত মেরামত করা না হলে জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উদ্ধার হওয়া বালুর বস্তা দ্রুত বাঁধ রক্ষার কাজে ব্যবহার এবং চুরির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।