টাকার লোভে যাত্রীকে বাসেই হত্যা: বাসচালকসহ গ্রেপ্তার ৩

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
টাকার লোভে যাত্রীকে বাসেই হত্যা: বাসচালকসহ গ্রেপ্তার ৩

জমি বিক্রির টাকা লুঙ্গির কোচে রেখে বাসের ভাড়া দিতে গিয়েই কাল হলো ইসমাইল হোসেনের (৫০)। টাকার লোভে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে তাকে বাসের ভেতরই শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে পালিয়ে যায়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ‘রাজ ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মিন্টো রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকা থেকে মুখ ও দুই হাত স্কচটেপে বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি জামালপুরের বাসিন্দা এবং জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে ছেলের কাছে যাচ্ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে গাজীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজ ক্ল্যাসিক পরিবহনের বাসে ওঠেন ইসমাইল। পথে সুপারভাইজারকে ভাড়া দেওয়ার সময় তার লুঙ্গির কোচে বিপুল পরিমাণ টাকা দেখে ফেলে সুপারভাইজার সাজু। বিষয়টি সে চালক সোহেলকে জানালে তারা ইসমাইলকে টার্গেট করে এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসমাইলকে নির্ধারিত গন্তব্য চান্দুরায় না নামিয়ে বাসে ঘুমিয়ে থাকতে বলা হয় এবং অন্য সব যাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাস ফাঁকা হয়ে গেলে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলে। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বনানীর দিকে এনে ইউটার্ন নিয়ে এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় লাশটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মহাখালী থেকে বাসটি জব্দ ও জড়িত তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। নিহতের কাছে থাকা জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে আড়াই লাখ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।