বয়সসংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগস্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২২ সালে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী রবি কুমারকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে একই অভিযোগে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) নিজেদের খেলোয়াড়দের নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য মৌসুম-পূর্ব একটি কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় রোহিতের বয়সসংক্রান্ত অসঙ্গতি শনাক্ত করে। এরপর চলতি মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি বহুদিনের ম্যাচ খেলার জন্য ঘোষিত ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বেঙ্গলের হয়ে খেলা রোহিতের বয়সের সঙ্গে তার নথিপত্রে ২৭ মাসের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিএবি। নিষেধাজ্ঞাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) অধিভুক্ত সব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। রোহিত একা নন। একই ধরনের বয়সের অসঙ্গতির কারণে আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম রবি কুমার, ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের বাঁহাতি পেসার। ক্যারিবীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রবি কুমার। একই বছর বেঙ্গলের সিনিয়র দলের হয়ে তার অভিষেক হয়। তবে ২০২৩ সালের পর আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দেখা যায়নি তাকে। রবি কুমারের ক্ষেত্রেও বয়সের বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তার বয়সের অসঙ্গতি ৪০ মাসের বেশি। ফলে অভিষেকের সময় থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত তার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সব রেকর্ড অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ভারতীয় ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতির ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে অতীতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে বোর্ড একটি অ্যামনেস্টি স্কিম চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল। এর আওতায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়রা স্বেচ্ছায় বয়সসংক্রান্ত কোনো অসঙ্গতি প্রকাশ করে প্রকৃত জন্মতারিখ জানালে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সুযোগ পেতেন। তবে পরবর্তীতে কারও বয়সসংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়লে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বয়স যাচাইয়ের সময় খেলোয়াড়দের জন্মসনদ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষাগত নথিপত্র জমা দিতে হয়। বয়সের প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করতেই এসব নথি যাচাই করা হয়। রোহিত যাদবের নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এলো বয়স জালিয়াতির বিষয়টি। একই সঙ্গে ৬৫ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নথিপত্র যাচাইয়ের গুরুত্বও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।