ঝিনাইদহ-যশোর ৬ লেন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহনের দামে অসন্তোষ

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ঝিনাইদহ-যশোর ৬ লেন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহনের দামে অসন্তোষ

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ৬ লেন প্রকল্পে কোনো ভাবেই যেন ফিরছে না গতি।সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজের ধীরগতি ও ভূমি অধিগ্রহন জটিলতার কারণে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান হয়নি স্বপ্নের মহাসড়ক।এতে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলে বেড়েছে জনভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ ছাড়া মহাসড়কের ঝিনাইদহ অংশের দুই লটে ৫০ শতাংশের বেশি ভূমি অধিগ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। জারি করা হয়েছে অধিগ্রহন সংক্রান্ত ৮ ধারার নোটিশ। তবে নোটিশ জারির পরে জমির সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিকরা। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েও পাননি সমাধান।ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ৬ লেন উন্নীতকরণ প্রকল্প, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল থেকে কালীগঞ্জ পৌর শহরের কলাহাট পর্যন্ত প্রকল্পের ১ম ফেজ বা লট। এর পর থেকেই শুরু হয়েছে প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজ বা লট। যা শেষ হয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারের শেষ পর্যন্ত। এই দুই ফেজে এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত ৮ ধারার নোটিশ জারি করেছে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহন শাখা। অধিগ্রহনে ৮ ধারার নোটিশের পরে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির মালিক তাদের জমি ছেড়ে দিয়েছে বলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এখনো ফেজ-১ এর আওতাধীন এলাকায় জমির একাধিক মালিক ৮ ধারার নোটিশে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করেছেন। তবে সেসব আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট শাখা।

এদিকে অধিগ্রহনে জমির মালিকরা জানায়, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের পাশে খড়িখালী এলাকার নৃসিংহপুর মৌজার একাধিক জমির অধিগ্রহনে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জমির মালিকরা অভিযোগ করে জানায়, পাশাপাশি জমি কিন্তু মৌজা আলাদা হওয়ায় অধিগ্রহনের ৮ ধারার নোটিশে মূল্য নির্ধারণে ব্যাপক পার্থক্য করা হয়েছে। বিগত সময়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অধিগ্রহন শাখার কর্মকর্তা ও বিগত সরকারের প্রভাবশালীদের যোগসাজশে জমির মূল্য নির্ধারণে এই তারতম্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।কালীগঞ্জের সাবেক এমপির লোকজন প্রভাব খাটিয়ে তাদের জমির দাম অনেক বেশি আদায় করে নিয়েছে এমনটা অভিযোগ রয়েছে।

ঝিনাইদহ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নৃসিংহপুর মৌজার সর্বনিম্ন মৌজা রেটও আমাদের দেয়া হয়নি। সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মৌজা রেটে ২০২০-২০২২ সাল পর্যন্ত বাগান শ্রেনির জমির সর্বনিম্ন রেজিস্ট্রি মূল্য প্রতি শতাংশ ৩৪ হাজার ৭৮৬ টাকা। কিন্তু ওই সময়ের দলিল পর্যবেক্ষণ করেই নাকি আমাদের অধিগ্রহনে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অধিগ্রহনে বাগান শ্রেনির জমির দাম ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬২ টাকা।একই এলাকার জমির মালিক ইউসূফ সিদ্দিক বলেন, নির্ধারিত মৌজা রেট অনুযায়ী অধিগ্রহনে আমাদের জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহন শাখা থেকে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের ভেতরে আমাদের একই মৌজার দলিল রেজিস্ট্রির মূল্য অনুযাযী অধিগ্রহনে জমির দাম ধরা হয়েছে। কিন্তু আমরা সেই দাম পাইনি। আমাদের জমি পানি দামে নেয়া হচ্ছে।

এক জমির মালিকের ৮ ধারা ও সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে দেয়া মৌজা রেটের কপিতে গড়মিল পাওয়া গেছে। নৃসিংহপুর মৌজার ১৪৯৪ নং দাগের একটি বাগান শ্রেনির জমির মূল্য অধিগ্রহনে ৮ ধারায় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি শতক ৩০৬২ টাকা। যা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অফিসের মৌজা রেটের প্রায় ১০ গুণ কম। সাব রেজিস্ট্রি অফিস প্রদত্ত ২০২০-২০২২ সাল পর্যন্ত বাগান শ্রেনির জমির সর্বনিম্ন মৌজা রেট ৩৪ হাজার ৭৮৬ টাকা। ২০২৩-২০২৪ সালে সাব রেজিস্ট্রি অফিস একই জমির মৌজা রেট নির্ধারণ করেছে ৩৮ হাজার ৯৭৫ টাকা। কিন্তু অধিগ্রহণের জন্য জারি করা ৮ ধারায় বাগান শ্রেনির জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি শতক ৩০৬২ টাকা। এ ছাড়া ডাঙ্গা, বাস্তশ্রেনিভুক্ত জমির মূল্য নির্ধারণেও সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মৌজা রেট আমলে নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ জমির মালিকদের।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসন বলছেন, ভূমি অদিগ্রহনের ৮ ধারা নোটিশ জারি করার পরে আর আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই।যে কারণে ৮ ধারা জারির আগেই জমির মালিকদের আপত্তির শুনানি হয়েছে। তারপরেও যদি জমির দাম নির্ধারণ নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা সেটি খতিয়ে দেখবো।

অধিগ্রহনের ক্ষেত্রে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সালের ভেতরে যেই মূল্যে জমির কেনা বেচা হয়েছে, সেই দলিল গুলোর একটি গড় বিক্রয় মূল্য ধরেই আমরা অধিঘহ্রনের মূল্য নির্ধারণ করেছি। সাধারণ মানুষ অনেক জমি ক্রয়-বিক্রয়ে সময় অনেক কম দাম দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করেছে। এভাবে জমি কেনাবেচার মাধ্যমে মূলত সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে বছরের পর বছর। যে কারণে অধিগ্রহনের সময়ে বাজার মূল্যের চেয়ে রেজিস্ট্রি দলিলের মূল্যের তারতম্য অনেক। তারপরও আমরা অভিযোগ পেলে বিষয় গুলো খতিয়ে দেখবো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে