সংস্কারের অভাবে কাদা-পানিতে একাকার সড়ক, ভোগান্তিতে মানুষ

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
সংস্কারের অভাবে কাদা-পানিতে একাকার সড়ক, ভোগান্তিতে মানুষ

বরিশালের মুলাদীতে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সেলিমপুর বাজার থেকে জাগরনী বাজার হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কটি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে কাদা-পানি আর বড় বড় গর্ত। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন পূর্ব তয়কা ও জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে প্রায়ই তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে বই-খাতা। ফলে কিছু শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ রাখছে। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতেও দেখা দিয়েছে চরম প্রতিবন্ধকতা। অসুস্থ কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

জাগরনী বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন জানান, সড়কে কাদামাটি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, বাজারের ব্যবসায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সড়কে গাড়ী চলাচল করতে না পারায় বাজারের ব্যবসায়ীরা পণ্যপরিবহণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা টেকসই সড়ক ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সড়কটি পাকাকরণের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও লাভ হয়নি।  বাটামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম সিকদার বলেন, বাটামারা ইউনিয়নে মাত্র ৩/৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। বাকী সড়কগুলো বেশিরভাই কাচা ও বৃষ্টিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সেলিমপুর বাজার থেকে জাগরনী বাজার হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরনের জন্য কয়েকবার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার কিংবা পাকা করা সম্ভব হয়নি। 

যোগাযোগ ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষা ও কৃষিখাতসহ সার্বিক জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক করতে সড়কটি দ্রুত ও টেকসই পুনঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার জানান, সরকারি বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় দুর্গম এলাকার কাঁচা সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীতে নতুন অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথে সেলিমপুর বাজার থেকে আনন্দ বাজার পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে