আশির দশক থেকে সাংবাদিকতা জগতে যার ছিল দুর্দান্ত পদচারণা, কোটচাঁদপুরের সেই প্রবীণ সাংবাদিক শেখ নজরুল ইসলাম আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আর ভরসা না পেয়ে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে নিজ বাড়িতেই নীরবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন একসময়ের তুখোড় এই সংবাদকর্মী।
আশির দশকে কবিতা ছোট গল্প লেখালেখির মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন শেখ নজরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি কাজ করেছেন দৈনিক বাংলা, দৈনিক পূর্বাঞ্চল এবং সর্বশেষ দৈনিক মানবজমিন ও স্থানীয় দৈনিক নবচিত্র পত্রিকায়। কোটচাঁদপুরসহ বৃহত্তর এলাকার মানুষের সমস্যা, অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং সমাজের নানা অসংগতির চিত্র সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরেছেন তার প্রতিবেদনে। তার কলমে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের কথা। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে তিনি কখনো আপস করেননি। অনুসন্ধানী ও সাহসী প্রতিবেদনের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্থানীয় পাঠকসমাজে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সাংবাদিক হিসেবে তার ছিল নিজস্ব একটি শক্ত অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা।
একসময় সংবাদপত্রের পাতায় শেখ নজরুল ইসলামের প্রতিবেদন মানেই ছিল কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে চলে আসা। তার লেখনীতে যেমন ছিল মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা, তেমনি ছিল সমাজের অসঙ্গতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি কোটচাঁদপুরের সংবাদজগতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আজ সেই সাহসী কলমযোদ্ধাই শয্যাশায়ী। যে মানুষটি একসময় সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই মানুষটির জীবন এখন চরম সংকটের মুখে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই অচেতন থাকছেন তিনি। যে কারণে বাড়ির পরিবেশ জুড়ে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রেসক্লাব কোটচাঁদপুর, এ প্রতিষ্ঠানটিতে একাধারে ২০ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন শেখ নজরুল ইসলাম। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ায় কোটচাঁদপুরের সাংবাদিক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তার সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তার সুস্থতার জন্য পরিবার ও প্রেসক্লাব কোটচাঁদপুরের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।