মুক্তাগাছায় সকল শ্রেণীপেশার মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

এফএনএস (মোঃ ফেরদৌস; মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
মুক্তাগাছায় সকল শ্রেণীপেশার মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

'যেখানে আমি , সেখানেই পরিচ্ছন্নতা' এ প্রতিপাদ্য নিয়ে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য মুক্তাগাছা গড়ে তুলতে প্রতি মাসের ১ তারিখে সরকারি দপ্তরে  সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাসের প্রথম দিনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তাগাছা উপজেলা চত্বর, উপজেলা গেইট থেকে শহরের নতুন বাজারস্থ শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত করা, পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযান পরিচালনা  করা হয়েছে। এতে উপজেলার সকল শ্রেণীপেশার মানুষ স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা মিলনায়তনে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সাংবাদিক ইমাম উদ্দিন মুক্তা, সদস্য সচিব সাংবাদিক ফেরদৌস আলম, মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানবীর আহম্মেদপ্রমূখ। এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, ক্রীড়া সংস্থা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শহরের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রতি মাসের ১ তারিখে নিয়মিতভাবে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি নাগরিকদেরও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে। শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, মশক নিধন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ফেরদৌস তাজ। তিনি বলেন, এখানে যারা উপস্থিত হয়েছি সবাই ভলান্টিয়ার। আমাদের উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্নতা। আমাদের মুক্তাগাছাকে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা সচেতনতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিতভাবে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করা হলে শহরের পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। এ সময় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন। তারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান এবং নিজেদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কৃষ্ণ চন্দ্রের নেতৃত্বে উপজেলা চত্বরের বাগান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পরে উপজেলা গেইট থেকে মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ পর্যন্ত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে মশক নিধন কার্যক্রম, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে সড়ক ও আশপাশের এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন রাখতে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে মুক্তাগাছাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্ন অভিযান ও রবিবারে বিদ্যালয়ের ক্লি সানডে কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি মাসের ১ তারিখে সরকারি দপ্তরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ও শহীদ মিনার এবং এর আশপাশের এলাকাকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে তোলা হবে। এসব স্থানকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নাগরিকরা সেখানে এসে মুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন এবং নতুন প্রজন্ম মুক্তাগাছার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত হতে পারে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজ স্বাগত জানিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। সকলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে একটা বড় পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস করে মুক্তাগাছাবাসী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে